ফুল

বর্ষার কদম

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ২১:২০

 

আকাশজুড়ে কখনো কালো মেঘের ঘনঘটা কিংবা এক চিলতে রোদের মুখ কালো মেঘের ভিড়ে অথবা হঠাত্ করেই মুষলধারায় বৃষ্টি! জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদের পরে এমন প্রশান্তিই নিয়ে আসে বর্ষা।

বর্ষার সঙ্গী হতে গাছে গাছে দেখা মেলে আরেক অতিথির। গ্রীষ্মের প্রখরতা কমাতে যখন আম, জামসহ নানা ফলের ঘ্রাণে মুখর চারপাশ, তারপরই আগমন ঘটে বর্ষার সঙ্গী কদম ফুলের।

সরু সবুজ পাতার ডালে ডালে গোলাকার মাংসালো পুষ্পাধার আর তার থেকে বের হওয়া সরু হলুদ পাপড়ির মুখে সাদা অংশ কদমকে সাজিয়ে তুলেছে ভিন্নভাবে। একটি ফুলের মাঝে এত ভিন্নতার ছোঁয়া কদম ছাড়া আর কোন ফুলে দেখা যায়!

কদমগাছের ফুল ছাড়া রয়েছে ফল। দেখতে অনেকটা লেবুর মতো। কদমগাছের পাতা শীতকালে ঝরে যায় আর কচি সবুজ পাতা নিয়ে আগমন ঘটে বসন্তের। কদম ফুলের আছে অনেক নাম। ললনাপ্রিয়, সুরভি, কর্ণপূরক, মেঘাগমপ্রিয়, বৃত্তপুষ্প ছাড়াও নীপ নামে পরিচিত কদম ফুল। এর একেকটি গাছ ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। সবুজ ঝরঝরে পাতার মাঝে থাকা গোলাকার কদম ফুল বর্ষায় আরো রূপসী হয়ে ওঠে। কদমগাছও বেশ উপকারী।

কদমের গাছ থেকে যেমন জ্বরের ওষুধ তৈরি করা হয়, তেমনি এ গাছ দ্রুত বাড়ে বলে একে জ্বালানি কাঠ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে কদম ফুল উষ্ণ জায়গায় দ্রুত বাড়ে। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত এবং চীনে এর দেখা মেলে। কদমের আরেকটি সংস্কৃত নাম আছে—কদম্ব বলেও অনেকে চেনে। যার অর্থ—যা বিরহীকে দুঃখী করে! আভিধানিক অর্থ এমন হলেও মূলত কদম ফুল প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মাঝেও সুখ ছড়িয়ে দেয়। কদমের রূপের কারণেই একে যুগে যুগে কবিরা তাঁদের কবিতার মাঝে অলঙ্কার হিসেবে সাজিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন—

বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান,

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান।