গত বুধবার ভোররাতে শিকারিরা হাকালুকি হাওর পাড়ের পাখিবাড়ি থেকে ধরে ফেলে পানকৌড়ির ঘুমন্ত ৬০টি বাচ্চা; কিন্তু হাকালুকি হাওরে মাছ ধরার লোকজন থাকায় শিকারিরা পাখিগুলো নিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে পারেনি। দিনভর পাখির বাচ্চাগুলো নিয়ে হাকালুকি হাওরে নৌকায় ভেসে বেড়িয়েছে। বিকালবেলা মানুষের ভিড় কমে এলে নৌকা করে বাজারে বিক্রির জন্য যাওয়ার পথে পরিবেশ সচেতন কিছু মানুষ ও প্রশাসনের তত্পরতায় রক্ষা পায় এই পানকৌড়ির বাচ্চারা। উদ্ধারে একটু দেরি হলেই হয়তো এগুলো পৌঁছে যেত ক্রেতার কাছে। পাখির বাচ্চাগুলো জবাই করে খেয়ে ফেলত তারা।
বুধবার বিকালে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিকারিদের নৌকা থেকে ৬০টি পানকৌড়ির বাচ্চা উদ্ধার করেছে বন বিভাগের হাকালুকি বিট। এসময় নৌকায় পাখি রেখে শিকারিরা পালিয়ে যায়। উদ্ধারের পর পাখির বাচ্চাগুলো বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পাখি বাড়ির মালিক শাহরিয়ার আহমদ স্বপনের কাছে পানকৌড়ির বাচ্চাগুলো হস্তান্তর করা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস, বন বিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দেবনাথ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাত ৯টার দিকে পাখিবাড়িতে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়। পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
