চট্টগ্রামের চাক্তাই খাল আবর্জনার ভাগাড়

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ২২:১৭

একসময় চট্টগ্রামের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চাক্তাই খাতুনগঞ্জ থেকে সারা দেশে পণ্য পরিবহনের প্রধান অবলম্বন ছিল চাক্তাই খাল। মাত্র তিনদশক আগে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে চাক্তাই খাল দিয়ে কর্ণফুলি নদী হয়ে নৌযানে করে পৌঁছে যেত রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। দৈনিক অর্ধশতাধিক পণ্যবাহী নৌযান এই খালে চলাচল করত। কিন্তু সেসব এখন কেবলই অতীত। দখলে, দূষণে, ময়লা ও আবর্জনায় নাব্যতা হারিয়েছে চাক্তাই খাল। কয়েক জন নৌকা ও সাম্পানের মাঝি বলেন, কয়েক বছর আগেও খাতুনগঞ্জের ইসহাকের পুল এলাকা পর্যন্ত পণ্যবাহী নৌকা-সাম্পান চলাচল করত। এখন জোয়ারের সময়ও সেখানে যাওয়া যায় না।

চাক্তাই খালের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় খালের অনেক জায়গায় মাটি ও পলিথিনের স্তূপ জমে আছে। প্রবাহ কম থাকায় পানির রং কালো হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও অবৈধ দখলদাররা খালের জমি দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট তুলে বহাল তবিয়তে বসবাস করছে। দখলে দূষণে পর্যুদস্ত খালটি এখন ‘চট্টগ্রাম নগরীর দুঃখ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তলা ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বর্ষায় এই খালের দুপাড় উপচে পানিতে তলিয়ে যায় আশপাশের এলাকা। প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি দিয়ে দ্রুত পানি সরতে না পারার কারণে চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকার সময় ২০০৩-০৪ সালে সাড়ে ৯ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত গভীরতা রেখে চাক্তাই খালের বেশির ভাগ অংশের তলদেশ পাকা করা হয়। কিন্তু দুই-তিন বছর পর পাহাড়ি বালু, মাটি ও আবর্জনা জমে খালটি আবার ভরাট হয়ে যায়। এরপর আর বড় ধরনের খনন কাজে হাত দেওয়া হয়নি। এ কারণে এক পর্যায়ে খালের গভীরতা দাঁড়ায় তিন থেকে চার ফুটে। এই খালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায় খালের প্রস্ত একেক জায়গায় একেকরকম। কয়েকটি স্থানে খালের ভেতর মাটির বড় বড় স্তূপ জমেছে। পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে খালে পানির প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, নিষেধ করা সত্ত্বেও এলাকার অনেকে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। প্রতি বর্ষায় খাল থেকে মাটি ও আবর্জনা তোলা হয়। এরপরও খাল উপচে আশপাশের এলাকা তলিয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। চাক্তাই খালের বিভিন্ন অংশে দখলদারের দৌরাত্ম্য রয়েছে। কয়েক বছর আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন চাক্তাই খালের অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা করে। এতে ৪৮ জন অবৈধ দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়।