সিরাজগঞ্জে বানভাসিদের নেই ঈদ আনন্দ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ২২:২০

করোনা আর বন্যায় সিরাজগঞ্জের মানুষ বিপাকে পড়েছে। তাই এবারের কোরবানির ঈদে বানভাসিদের মধ্যে আনন্দ নেই। পাঁচটি উপজেলার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কোনো কোনো জায়গায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। বাড়িঘর ছেড়ে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বাঁধ বা উঁচু জায়গায়। 

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী ৩৩টি ইউনিয়নের ২১৬টি গ্রামের ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে যে যা পাচ্ছে তাই করে কোনোরকম জীবিকা নির্বাহ করছে। আবার কেউ কেউ অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বন্যাকবলিত পাঁচঠাকুরি এলাকার আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ঈদের আনন্দ করব কী দিয়ে। দুই বেলা দুমুঠো পেটের ভাতই জোগাড় করতে পারি না। এবার বন্যায় আমাগো সর্বস্বান্ত করল। কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা, ঈদের দিন পরিবারকে একটু সেমাই খাওয়াতে পারব কি না, জানি না।’ শাহজাদপুরের কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, চরের অভাবী মানুষগুলোর কাছে ঈদ যেন শুধুই স্বপ্ন। কারণ সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা তাদের ঘরবাড়ি সহায়সম্বল সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, বন্যায় সিরাজগঞ্জে পাঁচ উপজেলার ৩০টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ এবং পাঁচটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২২০টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১ হাজার ৬০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৬৮৪ পরিবার ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় রয়েছে।