জেকেজির (জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা) চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল চৌধুরীর প্রায় ২ হাজারটি করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। করোনা সনদ জালিয়াতির ঘটনায় তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার শিগিগর চার্জশিট দিবে ডিবি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জেকেজির কম্পিউটার ও অন্যান্য মেশিনারিজ সিআইডির কাছে পাঠিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করিয়েছি আমরা। তাতে ১৩ হাজার ৫৮৫টি কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের তথ্য পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে ১১ হাজার ৬৬০টি নমুনা জেকেজি কর্তৃক ব্যবহূত কম্পিউটারে সংরক্ষিত ছিল। আর এসব পরীক্ষার ভেতর গরমিল রয়েছে ১ হাজার ৯২৫টি কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন আরো বলেন, জেকেজির করোনা সনদ প্রতারণার মামলার তদন্তকাজও আমরা শেষ করেছি। দ্রুত আমরা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিতে পারব। তিনি আরো বলেন, তারা এসবের কোনটির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠিয়েছে, আবার কোনটির নমুনা ল্যাবে পাঠায়নি। এমনও হয়েছে পরীক্ষা করতে আসা ব্যক্তিদের শুধু কাগজে লেখা কিছু করোনার লক্ষণ জিজ্ঞাসা করেও রিপোর্ট দিয়েছে। আইডিসি নামক ভুয়া ই-মেইল সার্ভারের মাধ্যমে এসব মনগড়া রিপোর্ট তারা নমুনা জমা দেওয়া রোগীদের কাছে পাঠিয়েছে। তিনি আরো বলেন, জেকেজি কোনো তালিকাভুক্ত গ্রুপ অফ কোম্পানিজ না। তাই সংশ্লিষ্টরা তাদের মনমতো পদবি ব্যবহার করেছেন। তাই ডা. সাবরিনা কখনো নিজেকে চেয়ারম্যান কখনো কনভেইনার দাবি করতেন। আসলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তির দুই মাস পর জেকেজি সিটি করপোরেশন থেকে একটি ট্রেড লাইসেন্স নেয়। এটা কোনো জয়েনস্টক কোম্পানি না।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির বিষয়টি চার্জশিটে আসবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে আবদুল বাতেন বলেন, কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। তবে অনিয়মের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাব আমরা।
