স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালো করে চেনেন তিনি। বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স ইউনিট ও ‘এ’ দলের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আবার বিশ্বের ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট নিয়েও খুব ভালো ধারণা আছে তার। ছিলেন মেলবোর্ন রেঞ্জার্সের কোচ; এখন সানরাইজার্স হায়দারাবাদের সহকারী কোচ। আর এইসব অভিজ্ঞতা থেকেই সিমন হেলমুট বলছিলেন, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের এখন যে মান, তা নিয়ে বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে।
বিগ ব্যাশ, আইপিএল, সিপিএলে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে হেলমুট বলছিলেন, ‘আমি বিবিএল (বিগব্যাশ), আইপিএল ও সিপিএলে কাজ করেছি। কিন্তু এটা খুবই ভালো ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। বিপিএল যেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে বাংলাদেশের অবশ্যই এর মান নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত।’
এবারের বিপিএলে হেলমুট কাজ করছেন চিটাগং ভাইকিংসের প্রধান কোচ হিসেবে। এবারের আসরের উদ্বোধনী দিনে শ্বাসরোধ করা এক জয় পেয়েছে তার দল। সেই জয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে হেলমুট বলছিলেন, ‘হূদস্পন্দন থমকে যেতে শুরু করেছিল। খুবই কঠিন ম্যাচ ছিল। আমরা ভালো বোলিং-ফিল্ডিং করেছিলাম। আমার মনে হয় না কোনো দলই কন্ডিশনটা ঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে। আমরা ঠিক পরবর্তী ম্যাচ দেখেছি। ঢাকা ডায়নামাইটস ১৮০ এর বেশি করেছিল। হয়তো ব্যাটিং মনোভাবটা কেমন হবে সে বিষয়ে আমাদের আরেকটু সপ্রতিভ হতে হবে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে আমরা জয় পেয়েছি। এই টুর্নামেন্টগুলোয় মাঝে মাঝে অযাচিতভাবেই জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ। মুশির অধীনে স্বল্প সময়ের মধ্যে দল যেভাবে সংঘবদ্ধ হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্ট।’
এই বিপিএলের মাঝেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের কাজ নিয়ে কথা বলতে হলো হেলমুটকে। তিনি বলছিলেন ‘এ’ দল ও এইচপিতে তার কাজটা খুবই রোমাঞ্চকর। এখানে তরুণ ক্রিকেটারদের সাথে কাজ করতে পেরে খুব উচ্ছ্বসিত তিনি, ‘আমি বাংলাদেশের এইচপি কোচ এবং ‘এ’ দলের হয়ে কাজ করছি। এই কাজের সবচেয়ে উদ্দীপনার ব্যাপার হচ্ছে তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করা। চিটাগং ভাইকিংসের কিছু তরুনের সঙ্গে কাজ করতে পেরে সত্যিই আমি সন্তুষ্ট। দুর্ঘটনার পর রাব্বি (ইয়াসির আলী) আবার ফিরেছে যে এইচপি প্রোগ্রামের সঙ্গে আছে। মিশু (ইয়াসিন আরাফাত) অসুস্থ ছিল, এখন সে খেলার জন্য ফিরেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষিক্ত সাদমানকে নিয়েও আমি সন্তুষ্ট।’
হেলমুট বলছিলেন, বাংলাদেশের দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে এই বিপিএল অনেক বড় একটা ভূমিকা রাখতে পারে, ‘২০২০ সালে আমাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। কাজেই দলগুলোর মধ্যে কেমন মেধা লুকিয়ে আছে এটা আমাকে বেশ ভালো কিছু ধারণা দিচ্ছে।’
বাংলাদেশে কাজ করতে গিয়ে আরও অনেক তরুণের মতো সদ্য টেস্ট অভিষেকে সাড়া ফেলে দেওয়া নাঈমের সাথেও কাজ করেছেন হেলমুট। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এই স্পিনার সম্পর্কে বলছিলেন, ‘নাঈম খুবই সাড়া জাগানো একজন ক্রিকেটার। সে অলরাউন্ডার হয়ে উঠছে। ফিল্ডিংয়েও সে ভালো। সে চতুর একজন অফস্পিনার। সবসময় উন্নতির চেষ্টায় দৃঢ়প্রত্যয়ী একজন ক্রিকেটার সে।’
হেলমুট নিজের আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলছিলেন, ‘আইপিএলে আমি সানরাইজার্সের সঙ্গে থাকব এবং এইচপি প্রোগ্রামের জন্য আবার ফিরব। আমি বিশ্বাস করি দেশে-বিদেশে আমাদের কিছু ‘এ’ দলের প্রতিযোগিতা থাকতে হবে। আসলে মে’র শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের এইচপি ও ‘এ’ দলের অনেক কার্যক্রম আছে।’
