অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় কাকের মড়ক লেগেছে। গত একমাসে ২ শতাধিক কাকের মৃত্যুতে জনমনে শংকা দেখা দিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়েছে।
গত দেড় মাসে নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মা বিদ্যালয় মাঠ, নওয়াপাড়া পীরবাড়ী এলাকায় ২ শতাধিক কাকের মৃত্যু ঘটলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ও ইন্সটিটিউট অব এপিডেমিওলজি ডিজিস কন্ট্রোল এ্যান্ড রিচার্স ডিপার্টমেন্ট থেকে অনুসন্ধান টিম ৫ জানুয়ারি নওয়াপাড়ায় সরজমিনে তদন্ত করেন। তারা পাখির বিষ্টা, মরা পাখিসহ কমপক্ষে ১৫ রকমের স্যাম্পল সংগ্রহ করেন এবং মহাখালিতে পরীক্ষার জন্য পাঠান।
এ ব্যাপারে অনুসন্ধান টিমের ভেটিরিনারী সার্জন ডা: মো: শহিদুল ইসলাম জানান, 'প্রাথমিক ফ্লু টাইপের কিছু অনুসঙ্গ থাকতে পারে। ল্যাবরেটরি টেস্ট করার পর নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। আপাতত: মরা পাখি মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। তবে খালি হাতে কোন পাখি স্পর্শ করা নিরাপদ নয়। মুখে মাস্ক ব্যবহার না করে কোন পাখি ধরা যাবে না।'
ইকো হেলথ এলাইন্স অরগানাইজেশন টিমের ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, 'ইতিমধ্যে আক্রান্ত ২টি এলাকা ব্যাপক অনুসন্ধান করা হয়েছে। নওয়াপাড়া পৌর মেয়র, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তির সংগে কথা বলে পরিবেশ সুরক্ষা, পরিবেশ উন্নয়ন ও মড়কের ব্যাপারে আগাম সতর্কতা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।'
কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. মো. আফলাক উদ্দিন ফকির জানান, 'মানবদেহের জন্য যদিও ভয়াবহতা আপাতত দেখা যাচ্ছে না, তবুও মরা কাকগুলি মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। মানুষ সহজে সংক্রমিত হওয়ার আশংকা কম।'
তিনি শিশুদের মরা কাক খালি হাতে না ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে অনুসন্ধানী টিম সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়ে মোটিভেশনাল ওয়ার্কশপ সম্পন্ন করেছে।
আরও পড়ুনঃ নোয়াখালীতে গণধর্ষণ: রিমান্ডে সাত আসামি, গ্রেফতার আরো ৩
উল্লেখ্য, কাকের পাশাপাশি পেঁচা জাতীয় পাখির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। নওয়াপাড়া এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভালো না থাকায় এবং পচা, মরা জিনিস যত্রতত্র যথেচ্ছা অনিরাপদভাবে ফেলে রাখায় পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
