স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলোয়াড় ও কোচদের পাওনা নিষ্পত্তি না হওয়ার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। একটা সময় এই অভিযোগ অনেক বেশি ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্পরতায় এই অভিযোগ বেশ খানিকটা কমে এসেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংস্থা ফিকার চালানো এক জরিপে উঠে এলো যে, এখনো এই পাওনা জটিলতা থেকে গেছে বিপিএলে। অন্তত একটি দল এখনো পাওনা পরিশোধ করেনি।
ফিকার এই বিবৃতি গতকালই নজর কেড়েছে বিসিবির। তারা এক বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, একটি মাত্র দলের তিন জন খেলোয়াড় ও একজন কোচের পাওনা বাকি আছে বলে তারা জানতে পেরেছে। এটাকে তারা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেছেন এবং অনতিবিলম্বে এর সুরাহা করার আশ্বাসও দিয়েছেন।
এই জরিপটি করা হয়েছিল ফিকার বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই যুগে এখনো অনেক লিগ থেকেই পাওনা পেতে সমস্য হয় ক্রিকেটারদের। এ ছাড়াও আরো কিছু বিষয় নিয়ে জরিপ করেছে তারা। এই জরিপে ফিকার সঙ্গে যুক্ত ৯টি প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৭৭ জন পেশাদার ক্রিকেটার অংশ নেন। এতে ছিলেন না ভারত ও পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটার।
ফিকার জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ খেলোয়াড় টেস্টকে ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণ মনে করেন। ৭৬ শতাংশ এই সংস্করণে দিন কমানোর বিপক্ষে। ৫৮ শতাংশ মনে করছেন, যথেষ্ট টেস্ট খেলা হচ্ছে না। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে একটা সময় দুইটি স্তর রাখার ভাবনা ছিল। উত্তরণ-অবনমন রাখার এই মতো সমর্থন করেন ৮২ শতাংশ ক্রিকেটার।
ওয়ানডে বিশ্বকাপ বর্তমানে ১০ দলের টুর্নামেন্টে পরিণত হয়েছে। ৫৫ শতাংশ ক্রিকেটার মনে করেন, বিশ্বকাপে ১০টির বেশি দল থাকা উচিত। বিশ্বকাপকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইভেন্ট মনে করেন ৮৬ শতাংশ।
এই প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, কিছু ফ্রাঞ্চাইজি লিগ থেকে অর্থ পেতে সমস্যায় ভুগছেন খেলোয়াড়রা। যে ছয়টি টুর্নামেন্টকে চিহ্নিত করেছে ফিকা, সেখানে আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিযোগ ওঠার ক্ষেত্রে একমাত্র প্রতিষ্ঠিত লিগ বিপিএল। বাকি টুর্নামেন্টগুলো হলো—কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি, আবুধাবি টি-টেন, কাতার টি-টেন, ইউরো টি-টোয়েন্টি স্ল্যাম ও মাস্টার্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।
ফিকার তৈরি করা পুরুষ ক্রিকেটারদের ২০২০ সালের গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্টে দেখা গেছে—৩৪ শতাংশ ক্রিকেটার তাদের প্রাপ্য টাকা পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ফিকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেনি বিসিবি। তবে তারা বলেছে, অভিযোগ থেকে যেভাবে সংবাদ করা হচ্ছে, তা ‘বিভ্রান্তিপূর্ণ’। কারণ, ‘বিসিবি পরিস্কার বলতে চায় যে, বিপিএলের চার জন মাত্র ব্যক্তিকে নিয়ে এ রকম অমীমাংসিত অভিযোগ রয়েছে—তিন জন খেলোয়াড় ও একজন কোচ। এরা সবাই একটি দলের। যারা ২০১৮ সালের ষষ্ঠ বিপিএলে অংশ নিয়েছেন। এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কারণ এই বিপিএলে ১৭০ জন দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফ চুক্তিবদ্ধ ছিলেন।’
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, তারা এই বাকি থাকা পাওনাটা নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং এটা দ্রুত সুরাহা করার ব্যবস্থা করছেন, ‘এটা আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার ব্যাপার। কারণ, কোনো না কোনোভাবে আমরা এ জন্য দায়বদ্ধ। ইতিমধ্যে আমাদের যেসব এজেন্ট পাওনা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন, সেসব দলের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। প্রয়োজনে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব।’
