শপথ নিতে যাওয়া মন্ত্রিসভায় বড় চমক এক ঝাঁক নতুন মুখ। মন্ত্রিসভার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিয়োগ দেওয়া ৪৬ জনের মধ্যে ৩২ জনই নতুন মুখ। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৭ জন। ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রী রয়েছেন। এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের বাইরে ১৪ দলের অন্য কোন শরীককে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। মহাজোটভুক্ত জাতীয় পার্টি (জাপা) আগেই বিরোধী দলের আসনে বসবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের অনেক প্রবীণ নেতাকেও মন্ত্রিসভায় আনা হয়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এবারের মন্ত্রিসভায় পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভার যেসব উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি বহাল রয়েছেন তার মধ্যে আছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, আ হ ম মুস্তফা কামাল, আব্দুল মান্নান, নুরুজ্জামান আহমেদ, নসরুল হামিদ, মো. শাহরিয়ার আলম, জুনায়েদ আহমেদ পলক। এই মন্ত্রিসভায় তিনজন টেকনোক্র্যাট হিসেবে স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, মোস্তফা জব্বার ও শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এর মধ্যে প্রথম দু’জন পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভায়ও ছিলেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে দু’জনকে মন্ত্রিসভায় নেয়া হয়েছে। এরা হলেন সাধন মজুমদার মন্ত্রী এবং স্বপন ভট্টাচার্য প্রতিমন্ত্রী। তিনজন নারী সদস্য যথাক্রমে ডা. দীপু মনি মন্ত্রী, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান প্রতিমন্ত্রী এবং বেগম হাবিবুন নাহার উপমন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে যাওয়াদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে বলে একটি সূত্র আভাস দিয়েছে।
আজ সোমবার বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রায় এক হাজার অতিথিকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের নাম ও দপ্তর ঘোষণা করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ দেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী কর্তৃত্বে রয়েছে। যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পূর্ণ মন্ত্রী নেই সেখানে প্রতিমন্ত্রীরা নির্বাহী সিদ্ধান্ত নেবেন।
যারা যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন:
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু : ওবায়দুল কাদের, কৃষি : আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্র: আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য: হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদ: আনিসুল হক, অর্থ: আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়: তাজুল ইসলাম, শিক্ষা: দীপু মনি, পররাষ্ট্র: এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনা: এম এ মান্নান, শিল্প: নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাট: গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ: জাহিদ মালেক, খাদ্য : সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্য: টিপু মুনশি, সমাজকল্যাণ: নুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত: শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু: শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম: বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ভূমি: সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, রেলপথ: নুরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ইয়াফেস ওসমান (টেকনোক্র্যাট), ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি: মোস্তাফা জব্বার (টেকনোক্র্যাট)
প্রতিমন্ত্রী:
শিল্প মন্ত্রণালয়: কামাল আহমেদ মজুমদার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান: ইমরান আহমেদ চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া: জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ: নসরুল হামিদ বিপু, মত্স্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়: আশরাফ আলী খান খসরু, শ্রম ও কর্মসংস্থান: মুন্নুজান সুফিয়ান, নৌ পরিবহন: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা: জাকির হোসেন, পররাষ্ট্র: শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন: ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়: স্বপন ভট্টাচার্য্য, পানি সম্পদ: জাহিদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ: মুরাদ হাসান, সমাজকল্যাণ: শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি: কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ: এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন: মাহবুব আলী, ধর্ম বিষয় মন্ত্রণালয়ে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ( টেকনোক্র্যাট)
উপমন্ত্রী:
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে হাবিবুন নাহার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ কে এম এনামুল হক শামীম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
