সদিচ্ছায় কোনো কিছুই অসম্ভব নহে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১:১৪

বহু বত্সর ধরিয়া ঈদুল আজহার পর কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছিল। ঢাকা এমনিতেই বিশ্বের উল্লেখযোগ্য দূষিত শহর। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে অতীতে কোরবানি-পরবর্তী সময়ে দূষণ-দুর্গন্ধে নাকাল হইতে হইত ঢাকাবাসীকে। তবে কোনো ব্যাপারেই হতাশ বা ধৈর্যহারা হইতে নাই। কোনো কিছু লইয়া চিরকাল নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও রাখিতে নাই। এইবার তাহাই প্রমাণ করিয়া দেখাইয়াছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ ঘোষিত নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই শেষ করিয়া নগরবাসীকে ঝকঝকে-তকতকে ঢাকা উপহার দিয়াছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার মধ্যরাতের মধ্যে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য প্রায় শতভাগ অপসারণ করিয়াছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। বলা যায়, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ঢাকার দুই সিটি চমক দেখাইয়াছে। এইবারই প্রথম কোরবানির পশুর বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে কমিউনিটির লোকজনসহ সাধারণ জনগণকেও সরাসরি নিয়োজিত হইতে দেখা গিয়াছে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আনিতে প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে নিজ ওয়ার্ডের কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করিয়া তাহা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থাপনার জন্য বলা হইয়াছে। জবাবদিহিরও আওতায় আনা হইয়াছে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে নিজ ওয়ার্ড পরিষ্কারের জন্য পুরস্কার প্রথাও চালু করিয়াছে সিটি করপোরেশন।

এইবার আরো কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয় ছিল। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির সংখ্যা বাড়িয়াছে। যদিও এইবার করোনার কারণে গতবারের তুলনায় কিছুটা কম সংখ্যায় পশু কোরবানি দেওয়া হইয়াছে; তবে ইহাতে বর্জ্য কম জমে নাই। রাজধানীতে কোরবানির ঈদের দিনে ১৩ হাজার টনের বেশি বর্জ্য জমিয়াছিল। আশার কথা হইল, বহু ক্ষেত্রেই নগরবাসীর মধ্যে ব্যাগে বর্জ্য ঢুকাইয়া নির্ধারিত স্থানে রাখিতে দেখা গিয়াছে। গণমাধ্যমের প্রচারণার কারণে মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় অনেক অধিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাইয়াছে। ইহা ছাড়া দ্বিতীয় দিনে অনেক স্থানে পশু কোরবানি হইয়াছে। সেইখানেও বর্জ্য তৈরি হইয়াছে এবং সেইগুলিও ঐদিন সন্ধ্যার মধ্যে অপসারণ করা সম্ভব হইয়াছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ করিবার লক্ষ্য লইয়া সাড়ে সাত শত যানবাহন ব্যবহার করিয়াছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। সেই সঙ্গে করপোরেশন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে মাঠে কাজ করিয়াছিলেন সাড়ে ১৭ হাজার কর্মী। পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখিতে ৪২ টন ব্লিচিং পাউডার এবং ১ হাজার ৮০০ লিটার তরল জীবাণুনাশক ছিটানো হইয়াছে। তাহা ছাড়া বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশন হইতে কয়েক লক্ষ বিশেষ ধরনের ব্যাগ বিতরণ করা হইয়াছে। জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেও হাজার হাজার লিফলেট বিতরণ করা হইয়াছে। অর্থাত্ অনেকগুলি ইতিবাচক বিষয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই এইবার ঢাকার এই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি প্রকাশ পাইয়াছে।

দুই মেয়র তো বটেই, সেই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণের জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই দুই সিটি করপোরেশনের সকল পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। কর্তৃপক্ষ আন্তরিক থাকিলে এবং নগরবাসী যথাযথভাবে সহযোগিতা করিলে কঠিন কাজ কত সহজে করা সম্ভব হয়, তাহার উদাহরণ এইবারের বর্জ্য অপসারণের ঘটনা।