দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, আইন প্রণয়ন করা সম্পূর্ণরূপে জাতীয় সংসদের এক্তিয়ার। আদালত সংসদকে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে পারে না। তবে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন সংবিধান পরিপন্থি হলে তা বাতিলের ক্ষমতা আদালতের রয়েছে। তুরাগ নদকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন। গতকাল এ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি প্রকাশ পেয়েছে।
অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে তুরাগসহ দেশের সব নদনদী রক্ষায় ১৭ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট। ঐ রায়ে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখপূর্বক কঠোর সাজা আরোপ করে নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধন এবং নদী দখল ও দূষণকারীকে সংসদ নির্বাচনসহ সব ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি নদী দখলদারদের ব্যাংক ঋণের অযোগ্য ঘোষণা করতে তপশিলি সব ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে সার্কুলার ইস্যু করতে বাংলাদেশ ব্যাংককেও নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখিত ঐ তিন নির্দেশনা সংশোধন করে দিয়ে বলেছে, আইন প্রণয়নের কোনো নির্দেশ আদালত সংসদকে দিতে পারে না। পাশাপাশি হাইকোর্টের তিন নির্দেশনা এখন থেকে পরামর্শ বা মতামত হিসেবে রায়ে উল্লেখ থাকবে বলে আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ইত্তেফাককে বলেন, রায়ে যে বিষয়গুলোর অবতারণা করা হয়েছে তা নদী দখল ও দূষণরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপিল বিভাগের রায়ে আরো বলা হয়েছে, পরিবেশ রক্ষার জন্য তুরাগ বা অন্য যে কোনো নদনদী, জলাশয়ের জায়গা কোনো অবস্থাতেই লিজ দেওয়া বা বিক্রয় করা যাবে না। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। নদীর কোনো সার্ভের সময় প্রথমেই সিএস ম্যাপে সার্ভে করতে হবে পরে আরএস, অন্য কোনো উপায়ে সার্ভে নয় বলেও রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আপিল বিভাগ। এছাড়া দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নীতিকে আইনের অংশ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এই পর্যবেক্ষণও আপিল বিভাগ বাতিল করে দিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি গতকাল হাতে পেয়েছেন রিটকারী আইনজীবী। এতে দেখা যায় যে, রায়টি লিখেছেন বিচারপতি জিনাত আরা। রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতিসহ বেঞ্চের অপর দুই সদস্য জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে তুরাগ নদকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে দেশের অন্যান্য নদনদীকে একই মর্যাদা দেওয়া হয়।
