প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাত্ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পি কে হালদার) পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার কমিশনের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার তাদের কাছে পৃথক তলবি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এই পাঁচ জনকে আগামী ১০ আগস্ট কমিশনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে। এই পাঁচ জন হলেন, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) ও শ’ওয়ালেস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক রেজাউর রহমান, মিজানুর রহমান ও সৈয়দা রুহি গজনভী।
উল্লেখ্য, দুদক গত বছরের ১৪ নভেম্বর পি কে হালদারকে তলব করেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যান। তবে ইতিমধ্যে তথ্য প্রমাণসাপেক্ষে কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, প্রশান্ত কুমার হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিপলস লিজিং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, কর ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য অনুরোধ করে। এর ধারাবাহিকতায় পি কে হালদারের অর্থ লেনদেন নিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।
ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পি কে হালদার ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, পি কে হালদারের হিসাবে ২৪০ কোটি টাকা এবং তার মা লীলাবতী হালদারের হিসাবে জমা হয় ১৬০ কোটি টাকা। তবে এসব হিসাবে এখন জমা আছে মাত্র ১০ কোটি টাকারও কম। অন্য দিকে পি কে হালদার এক ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বের করে নিয়েছেন। ঋণ নেওয়া ২ হাজার কোটি টাকার কোনো হদিস মিলছে না।
