জুলাইয়ে রপ্তানি বেড়েছে

সরকারি উদ্যোগের ফল মিলছে : অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:৪৬

করোনার ধাক্কায় টানা কয়েক মাস ধুঁকতে থাকা রপ্তানি জুলাইয়ে এসে গতি পেয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য হলেও বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি ২ কোটি ৩১ লাখ ডলার বেড়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। রপ্তানি বাড়ার এ চিত্র আশাবাদী করেছে সংশ্লিষ্টদের। এটিকে চলতি অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত বলে মনে করছেন তারা। বিশেষত করোনার এ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রপ্তানি বাড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, করোনার শুরুর দিকে স্থগিত হয়ে যাওয়া রপ্তানি আদেশ পরবর্তী সময়ে ফিরতে শুরু করে। অন্য দিকে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো বড় বাজারেও দোকান খুলতে শুরু করেছে। বিক্রি বাড়তে থাকায় রপ্তানি আদেশ আসছিল। এর প্রতিফলন দেখা গেছে জুলাইয়ের রপ্তানির চিত্রে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ইত্তেফাককে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল পাওয়া যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতি গতিশীল রাখতে প্রণোদনা ঘোষণা করেন তিনি, এরই সুফল মিলছে। করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরেও বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখতে গৃহীত উদ্যোগের ফল মিলছে। চলমান পরিস্থিতিতে যখন যে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সেটি নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৯১ কোটি টাকার পণ্য। রপ্তানি বেড়েছে ০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৮৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার পণ্য। এটি জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ শতাংশেরও বেশি।

সার্বিকভাবে রপ্তানি বাড়লেও প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২ শতাংশের মতো। এ খাতের নিট ক্যাটাগরির পণ্যের রপ্তানি ৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। তবে ওভেন ক্যাটাগরির পণ্যের রপ্তানি কম হয়েছে ৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট ৩২৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে এ সময়। আগের বছরের একই সময় পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৩১ কোটি ডলার। কৃষিপণ্য, চিংড়ি এবং হিমায়িত মাছ, পাট ও ওষুধ রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে পোশাকের আয় সামান্য কম হওয়া সত্ত্বেও সার্বিক রপ্তানি বেশি হয়েছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী সাত মাস পর বাংলাদেশ রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে এসেছে। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল রপ্তানি আয়ে। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি নিম্নগামী ছিল। করোনা মহামারির প্রভাবে গত এপ্রিল মাসে রপ্তানিতে ধস নামে। ঐ মাসে রপ্তানি ৫২ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল।