কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালিত হলো সীমিত পরিসরে

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৭

মহাকালের চেনাপথ ধরে প্রতি বছর বাইশে শ্রাবণ এলে খুব ঘটা করে মহা আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস পালিত হয়। কিন্তু বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কবিগুরুর ৭৯ মহাপ্রয়াণ দিবসটি পালিত হয়েছে। জনসমাগম এড়াতে স্বল্প পরিসরে এবার দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল কর্মসূচির মাধ্যমে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কবিভক্তরা দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানে মহান কবিকে স্মরণ করে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো কবিগুরুর স্মরণে নাচ, গান, নাটকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করে। এই বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্রভক্তদের কাছে একটি শূন্য দিন। রবীন্দ্র কাব্যসাহিত্যের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন সেই পরমার্থের সঙ্গে তিনি লীন হয়েছিলেন বাইশে শ্রাবণ। রবীন্দ্রকাব্যে মৃত্যু এসেছে বিভিন্নভাবে। জীবদ্দশায় মৃত্যুকে তিনি জয় করেছেন বারবার। কাব্য কবিতায় মৃত্যুবন্দনা করেছেন তিনি এভাবে—‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান। মেঘবরন তুঝ, মেঘজটাজূট! রক্তকমলকর, রক্ত-অধরপুট, তাপবিমোচন করুণ কোর তব মৃত্যু-অমৃত করে দান’ জীবনের শেষ নববর্ষের সময় রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার সাধের শান্তিনিকেতনে। সেদিন তার কলমে রচিত হয়েছিল ‘সভ্যতার সংকট’ নামের অমূল্য লেখাটি। তারও কয় দিন পর ১৯৪১ সালেরই ১৩ মে লিখে রাখলেন, রোগশয্যায় শুয়েই ‘আমারই জন্মদিন মাঝে আমি হারা’। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম অ-ইউরোপীয় ও বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে মারা যান, তবে বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে বাইশে শ্রাবণ তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।

তিনি প্রায় ২ হাজারেরও বেশি সংগীত রচনা করেছেন, যা দুই বাংলায় ‘রবীন্দ্রসংগীত’ নামে পরিচিত। সেই সঙ্গে তিনি প্রায় সাত দশক ধরে তার দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আটটি উপন্যাস, ৮৮টি ছোটগল্প এবং অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। তার রচিত আমার সোনার বাংলা ও জনগণমন গান দুটি যথাক্রমে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত।

সংস্কৃতি ও সাহিত্যের চর্চা ছড়িয়ে দিতে এবং ভবিষ্যতের শিল্পী ও সাহিত্যিক তৈরি করতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম বাঙালি এবং অ-ইউরোপীয় কবি হিসেবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

প্রতি বছর বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশে যথাযথভাবে দিবসটি পালন করার জন্য বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও এ বছর করোনা ভাইরাস মহামারি সবকিছু থমকে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতীসহ কলকাতায় সীমিত আকারে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।