ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে নতুন তর্ক

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২:৫০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ‘যৌক্তিকতা’ ও ‘প্রয়োজনীয়তা’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রন্টের কেউ কেউ। ‘বিএনপিকে ভোটে নিতে ঐক্যফ্রন্ট ছিল একটি ফাঁদ’—এই বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন করে তর্কের সূচনা করেছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এর মধ্যে দুই-একটি গণমাধ্যমে খবর আসে- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও কোরবানির ঈদের রাতে দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে এই ধরনের খবরকে ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই বিতর্ক প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা সব সময় বলেছি ঐক্য রক্ষা করব, এই বক্তব্য এখনো অপরিবর্তিত’।

নানা টানাপোড়েনের পর অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন। নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়া ও সব রাজবন্দির মুক্তিসহ সাত দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্যে এ ফ্রন্টের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিএনপি ও গণফোরাম ছাড়াও ঐক্যফ্রন্টের শরিক আ স ম আবদুর রবের জাতীয়                সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ও ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর বিকল্পধারার একাংশসহ কয়েকটি দল। বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নানা নাটকীয়তা শেষে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলেও ভোটের পর ফ্রন্ট থেকে সরে যায়।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণভবনে দুই দফায় সংলাপে অংশ নেয় ঐক্যফ্রন্ট। সরকার কোনো দাবি না মানলেও ভোটে অংশ নেয় বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনে বিএনপির মাত্র পাঁচ জন ও গণফোরামের দুই জন প্রার্থী জয়ী হন। নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিলেও নানা নাটকীয়তা শেষে বিএনপি ও গণফোরামের সব সংসদ সদস্যই শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেন।

সংসদ নির্বাচনের আগে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে একটি ফাঁদ হিসেবে মন্তব্য করেছেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। সম্প্রতি একটি সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘বিএনপিকে ভোটে নিয়ে ক্ষমতার বাইরে রাখতেই ঐক্যফ্রন্ট করা হয়েছিল।’ অলি আহমদ আরো বলেছেন, ‘বিএনপি ইচ্ছাকৃতভাবেই আওয়ামী লীগকে সরকারে বসিয়ে নিজেরা ক্ষমতার বাইরে রয়েছে।’ এবিষয়ে জানতে চাইলে অলি আহমদ গতকাল বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখন আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। যা বলার বলে দিয়েছি, বেশি বললে গুরুত্ব থাকবে না।’

এদিকে, কোরবানির ঈদের রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে কামাল হোসেনের সঙ্গে ঐক্য ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে যাওয়া নিয়ে খালেদা জিয়া প্রশ্ন তোলেন বলে খবর প্রকাশ করে একাধিক সংবাদমাধ্যম। এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার বলেছেন, ‘কয়েকটি গণমাধ্যমে সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, জাতীয় ঐক্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই। বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য মহল বিশেষ এই ষড়যন্ত্র করছে বলে আমরা মনে করি।’

ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে এসব খবরাখবর সম্পর্কে ড. কামাল হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘কে কোথায় কী বলেছে কী বলেনি সেটি আমি দেখিনি। আমরা সব সময়ই বলেছি বৃহত্তর এই ঐক্য রক্ষা করব। গণতন্ত্র ও সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে আমাদের সেই বক্তব্য এখনো অটুট রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।’ বিষয়টি নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন কি না, প্রশ্ন করা হলে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল বলেন, ‘দেখা যাক কে কখন কার সঙ্গে বসতে পারে। এখনতো করোনার কারণে আমরা সবাই গৃহবন্দি।’