দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পাঁচ মাসের মাথায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আড়াই লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ হাজার ৯৭৭ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এতে দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫১ জন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত আরো ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৩০৬ জন।
কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতদিন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বুলেটিনে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এলেও এদিন তার জায়গায় ছিলেন জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক ডা. বায়েজিদ খুরশিদ রিয়াজ। আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ২ হাজার ৭৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৪ জন।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তা দুই লাখ পেরিয়ে যায় ১৮ জুলাই। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৮ জুলাই সেই সংখ্যা ৩ হাজার স্পর্শ করে। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয় বুলেটিনে, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
ডা. বায়েজিদ খুরশিদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮৩টি ল্যাবে ১২ হাজার ৭০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ লাখ ২৫ হাজার ১২৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ, আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। নিপসম পরিচালক বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং সাত জন নারী।
