সাধারণ ও বিশেষ আইনে মামলা দায়েরের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। বিশেষ আইনের মামলার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে তামাদি খণ্ডন করে মামলা দায়েরের সুযোগ থাকে, কিন্তু করোনাকালে নিয়মিত কোর্ট না থাকায় এবং সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছিল। এই জটিলতা নিরসনে গত ২৬ মার্চ বা তার পরে তামাদি হওয়া সব ধরনের মামলা/আবেদন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দায়েরের সুযোগ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক। কেননা, জনস্বার্থ বিবেচনায় সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সর্বোচ্চ আদালত এই আদেশ দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এসংক্রান্ত এক মামলায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের দেওয়া আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ববলে সাধারণ বা বিশেষ আইনের অধীনে দেওয়ানি/ফৌজদারি বা প্রশাসনিক বিষয়ে আবেদন/ পিটিশন/ মামলা/ আপিল/ রিভিশন/ অন্য যেসব আইনি প্রক্রিয়া দায়েরের মেয়াদ ২৬ মার্চ বা এরপর শেষ (তামাদি) হয়ে গেছে, সেই মেয়াদ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হলো। সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ আদেশ দেওয়া হলো, যা সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে সব আদালত/ট্রাইব্যুনালের জন্য বাধ্যতামূলক।
‘ফজলুল হক সরদার এবং অন্যান্য বনাম গ্রামীণফোন লিমিটেড এবং অন্যান্য’ শিরোনামের মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন অংশ নেন। তাদের মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সিনিয়র আরো কয়েক জন আইনজীবী।
