রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
গত দুই দিন ধরে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লগুচাপ, পূর্ণীমা এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে বুধবার বিকাল থেকে মেঘনা নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বেড়িবাঁধ না থাকায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী বালুরচর, সুজনগ্রাম, জনতাবাজার, মুন্সীরহাট, সেবাগ্রাম, চরআলগী, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারিয়া, চর মুজাম্মেল ও তেলিরচর এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানিতে প্লাবিত হয় মুন্সীরহাট বাংলাবাজার, জনতাবাজার ও চেয়ারম্যান বাজার। এতে করে দোকানঘরের মালামাল নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন এলাকার খামারিদের হাঁস-মুরগী মারা যাওয়াসহ গবাদিপশু পানিতে ভেসে যায়। জোয়ারের স্রোতে সহস্রাধিক কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ পানিতে ভেসে যায় পুকুর ও ঘেরের মাছ। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কাঁচা ও পাকা সড়কের। উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাকসুদ মিজান জানান, পানির স্রোতে মেঘনাপাড়ের ৩৫টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের কয়েক শ কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আড়াই শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। চরআব্দুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে চরগজারিয়া, চর মুজাম্মেল ও তেলিরচর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিসহ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।
