সাভারে তিন নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৩

সাভারে বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদ-নদীর পানি বেড়ে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে নদ-নদীগুলোর পানি। উপজেলার বনগাঁও, ভাকুর্তা, তেঁতুলঝোরা, কাউন্দিয়া, স্বনির্ভর ধামসোনা ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাসহ নিম্নাঞ্চলগুলো বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বসতবাড়ি, বাজার, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও পুকুর। পানির নিচে কয়েক হাজার একর ফসলী জমি।  বন্যার কবলে পড়েছেন উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের হাজারও মানুষ। বেশি ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষকরা। 

অপর দিকে শিল্প এলাকা হওয়ায় কলকারখানার দূষিত বর্জ্য বন্যার পানিতে মিশে ছড়িয়ে পড়েছে নদী, খাল, বিল ও পুকুরে। ফলে বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি নানা ধরণের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্যার পানিতে সাভারে প্লাবিত হয়েছে অর্ধ শতাধিক গ্রাম। ফলে পানিবন্দি অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের কয়েক লাখ মানুষ। বন্যা কবলিত এলাকায় নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় খাবারের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।  

ধামসোনা ইউনিয়নের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় এ বছর  কোনো ধান ঘরে তুলতে পারবেন না। একই কথা বলেন বনগাঁও এলাকার সবজি চাষী আলতাব মিয়া। তিনি এ বছর দেড় বিঘা জমিতে লাউ, পেপেসহ বিভিন্ন  মৌসুমী সবজি করেছেন। কিন্তু বন্যার পানিতে তার পুরো সবজির ক্ষেত এখন পানির নিচে। 

সাভার উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, পাথালিয়া, তেতুঁলঝোড়া ও বনগাঁও ইউনিয়নের কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের শতশত হেক্টর কৃষি জমি, ধানক্ষেত ও বীজতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান চাষ ছাড়াও এসব কৃষি জমিতে ডাঁটা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষাবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। 

আরও পড়ুন: আড়ই মাসের শিশুকে কিছু টাকার বিনিময়ে ‘দত্তক’ দিয়েছিলেন বাবা ফেরত আনলেন মা

সাভার উপজেলার একাধিক মৎস চাষীরা তাদের  পুকুর ও ঘেরে নতুন পোনা ছেড়েছেন অল্পকিছু দিন আগে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পূর্বে প্রস্তুতি হিসেবে সবাই ঘেরে ৫ ফুট উঁচু করে নেট দিয়ে বাঁধ দিয়েছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ঘের থেকে তাদের অনেক পোনাই বেরিয়ে গেছে। অনেক ঘেরে বন্যার পানির সাথে কলকারখানার দূষিত বর্জ্য মিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে বিষাক্ত পানির কারণে প্রতিদিনই মাছ মরে যাচ্ছে। 

আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিম্ন এলাকার অনেক রাস্তাঘাটই বন্যার পানিতে তালিয়ে গেছে। এছাড়া শিল্প এলাকার অনেক শ্রমিক কলোনিতে বৃষ্টির পানির সঙ্গে বন্যার পানি মিশে গেছে। ফলে পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পোশাক শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। 

এদিকে সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় যোগ দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, রাজধানীর ঢাকার আশেপাশে বন্যার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সকল বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসি