শনাক্ত আড়াই লাখ ছাড়াল এ পর্যন্ত মৃত্যু ৩৩৩৩

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ২২:০০

দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পর পাঁচ মাসের মাথায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ হাজার ৮৫১ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৫০২ জন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত আরো ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৩৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা শুক্রবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে গত ২০ দিনে ৫০ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের টালিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় ইতালিকে           ছাড়িয়ে বাংলাদেশ এখন রয়েছে ১৫ নম্বরে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তা দুই লাখ পেরিয়ে যায় ১৮ জুলাই। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যু হয়। ২৮ জুলাই সেই সংখ্যা ৩ হাজার স্পর্শ করে। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যু হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ১ হাজার ৭৬০ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৪ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৮৪টি ল্যাবে ১২ হাজার ৬৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৮২৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষাগারের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে বনশ্রীর ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং তিন জন নারী। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ২৬ জন ও বাড়িতে এক জন রোগী মারা গেছেন। ডা. নাসিমা সুলতানা এদিন বুলেটিনে জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ১৪২১.৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৭ জনের মধ্যে এক জনের বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে। এছাড়া চার জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১২ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে; ছয় জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, চার জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১৩ জন ঢাকা বিভাগের, তিন জন চট্টগ্রাম বিভাগের; তিন জন রাজশাহী বিভাগের, পাঁচ জন খুলনা বিভাগের; এক জন বরিশাল বিভাগের এবং দুই জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা।

এই পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ষাটোর্ধ্ব রোগীদের মৃত্যুর হার ৪৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৬১ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছর বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ ও শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সি রোগীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৩৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে প্রতি ১০ লাখে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৮২৪ দশমিক ২ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৪০ দশমিক ৭ জন, রাজশাহীতে ৬০৮ দশমিক ৯ জন; খুলনায় ৬৬৩ দশমিক ৫ জন, বরিশালে ৬০৮ দশমিক ৮ জন; ময়মনসিংহে ৩৫৩ দশমিক ৮ জন, সিলেটে ৬৬৪ দশমিক ৩ জন; রংপুরে প্রতি ১০ লাখে ৩৪৭ দশমিক ৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮১৫ জন এবং আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ৮৩৮ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে গেছেন ৫৫ হাজার ১৭৫ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫২৪ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৬৫১ জন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায়  কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬০ জন, ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ২৮১ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫২ হাজার ৬০৯ জন।