বাংলা বানানের নিয়মকানুন

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৯:৫২

 

মো. কামরুল হাসান

সহকারী শিক্ষক

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল

জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা।

 

 

 

 

 

 

শুদ্ধিকরণ

সুপ্রিয় বন্ধুরা, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা তাই মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া আমাদের কর্তব্য। আমাদের আন্দোলন, আত্মত্যাগের প্রতি মর্যাদা দিতে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা রূপে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। তাই আমাদের বাংলা ভাষা ব্যবহারে বা প্রয়োগে সচেতন হতে হবে। শুদ্ধ উচ্চারণ শুদ্ধ বানান লেখায় সচেষ্ট থাকতে হবে।

৫. বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন-এর ব্যবহার

কোলন (:)

নাম : কোলন

চিহ্ন : (:)

বাক্যে অবস্থান : মধ্যে

বিরতিকাল : ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।

ফাঁক (space) : আগে ও পরে ফাঁক থাকবে।

ব্যবহারের নিয়ম :

১. কোলনের কাজ বাক্যের অন্তর্গত কোনো অংশকে বিশদ করা।

যেমন : মৃত্যুঝুঁকি ও আত্মোপলব্ধি : সাধারণ চিন্তা।

২. উদাহরণস্বরূপ কোনোকিছু প্রকাশ করতে বর্তমানে কোলন-ড্যাশের পরিবর্তে কোলন ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন : বাক্য তিন প্রকার। যথা : সরল বাক্য, জটিল বা মিশ্র বাক্য ও যৌগিক বাক্য।

৩. সময় প্রকাশের ক্ষেত্রে কোলন ব্যবহার করা হয়।

যেমন : তুমি আগামীকাল সকাল ০৮ : ৩০ মিনিটের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হবে।

৪. সংলাপে (dialogue) উদ্ধৃতিকারীর নাম প্রকাশে কোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন :

রহিম : তুমি কি এখন যাবে ?

শহিদ : হ্যাঁ।

[বর্তমানে ড্যাশ ও কোলন-ড্যাশের পরিবর্তে বা বিকল্প হিসেবে অনেকে শুধু কোলন ব্যবহার করছেন।]

অশুদ্ধ : সালাম বিনিময়: শান্তি ও অশান্তি

শুদ্ধ : সালাম বিনিময় : শান্তিও অশান্তি

উল্লেখ্য, শুধু বাংলা ভাষাতে কোলনের আগে ও পরে ফাঁক (space) ব্যবহার করা সংগত।

সতর্কতা : এখনও অনেকের লেখাতে কোলনের (:) পরিবর্তে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার করতে দেখা যায়। মনে রাখা প্রয়োজন, কোলন (:) হলো একটি বিরামচিহ্ন এবং বিসর্গ (ঃ) হলো একটি ব্যঞ্জনবর্ণ। তাই, দুটোর প্রয়োগবিধি ভিন্ন।

কোলন-ড্যাশ (:—)

নাম : কোলন-ড্যাশ

চিহ্ন : (:—)

বাক্যে অবস্থান : মধ্যে

বিরতিকাল : ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।

ফাঁক (space) : আগে ও পরে ফাঁক থাকবে।

ব্যবহারের নিয়ম :

১. উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত দিতে কোলন-ড্যাশ ব্যবহূত হয়। যেমন : বাক্য ৩ প্রকার। যথা :— সরল, জটিল, যৌগিক।

[বর্তমানে কোলন-ড্যাশের জায়গা দখল করে নিয়েছে কোলন বা ড্যাস।]

অশুদ্ধ : গঠনভেদে শব্দ ২ প্রকার। যথা :— মৌলিক ও সাধিত।

শুদ্ধ : গঠনভেদে শব্দ ২ প্রকার। যথা:—মৌলিক ও সাধিত।

উল্লেখ্য, স্মার্টফোনে অভ্র দিয়ে ড্যাশ (—) লেখার জন্য হাইফেন (-)-এর ওপর চেপে ধরলে ড্যাশ (—)-এর অপশন চলে আসে।

সতর্কতা : এখনও অনেকে কোলন-ড্যাশ (:—)-এর পরিবর্তে ভুলক্রমে বিসর্গ-ড্যাশ (ঃ—) কিংবা বিসর্গ-হাইফেন (ঃ-) কিংবা কোলন-হাইফেন (:-) ব্যবহার করেন। মনে রাখা প্রয়োজন, কোলন (:), কোলন-ড্যাশ (:—) হলো বিরামচিহ্ন এবং বিসর্গ (ঃ) একটি ব্যঞ্জনবর্ণ। এগুলোর প্রয়োগবিধিও ভিন্ন।

সূত্র : 

জামিল চৌধুরী (সংকলক ও সম্পাদনা), আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, ২০১৯  মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ, ২০১৯

বন্ধুরা, আরও জানতে চোখ রাখো ফেসবুকের ‘বাংলা বানানের নিয়মকানুন’ গ্রুপে এবং ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার অনুশীলন পাতায়।