বেকার হচ্ছে ব্যবসায়ী শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২০, ২১:৩৬

বাংলাবান্ধা দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

আকস্মিকভাবে দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধায় পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। পাথর আমদানিনির্ভর এই বন্দরে পাথর বোঝাই ট্রাক প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারিত থাকায় ভারতের রপ্তানিকারকদের লোকসান হচ্ছে। এই অভিযোগে তারা পাথর রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাবান্ধায় ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা বেকার হয়ে পড়ছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ৮০ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১৩ জুন এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রমের সময় বেঁধে দেওয়া হলেও পাথর বোঝাই ট্রাক প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়  বেলা ১২টা পর্যন্ত। জেলা প্রশাসন থেকে মাত্র ১০০ ট্রাক পাথর আমদানি করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ভারতের ফুলবাড়ি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জামির বাদশা মুঠোফোনে জানান, অন্য পোর্টের মতো বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সময়সীমা নতুন করে নির্ধারণ না করলে পাথর পাঠাতে রপ্তানিকারকরা অনীহা প্রকাশ করছে। কারণ সবমিলিয়ে তাদের লোকসান হচ্ছে। অন্যান্য পোর্টে ট্রাক প্রবেশে কোনো সময়সীমা বা সংখ্যা নির্ধারণ করা নেই। এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান জানান, বাংলাবান্ধা বন্দরটি পাথরনির্ভর। কিন্তু সময় নির্ধারণ করায় পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

পঞ্চগড় আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে ট্রাক প্রবেশের সময়সীমা  ৪টা পর্যন্ত থাকলেও বাংলাবান্ধায় সময়সীমা দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাক প্রবেশের সময় কম হওয়ায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পাথর রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসন যদি বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখেন তাহলে সবাই উপকৃত হবে। তবে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পোর্ট ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদের ছুটি শেষে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি চালু হয়েছে। পাথর বাদ দিয়ে বাকি সব পণ্য আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।