যমুনায় নৌকাডুবিতে মৃতদের গ্রামে শোকের মাতম

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২০, ২১:৪১

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

প্রমত্তা যমুনায় পিকনিকের নৌকা ডুবে পাঁচ জনের সলিল সমাধি ঘটায় উপজেলার বাইশকাইল গ্রামে শোকের মাতম চলছে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা সাত্বনা হিসেবে এখন শুধু প্রিয়জনের মরদেহ দাবি করছেন। টাঙ্গাইল অঞ্চল যমুনা নৌথানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, তিন দিন আগে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ পাঁচ জনের সবাই যে মারা গেছেন সেটি এখন নিশ্চিত। টানা তিন দিন অনুসন্ধানের পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান স্থগিত করেন টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল। গতকাল শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৪৫ কিলোমিটার ভাটিতে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার চালহরা চর থেকে নিখোঁজ মারুফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এনায়েতপুর থানার ওসি মাসুদ পারভেজ জানান, ঐ চরে আটকে থাকা মারুফের মরদেহ দেখতে পেয়ে জেলেরা থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে মারুফের পকেটে থাকা মোবাইলের সীম থেকে নম্বর নিয়ে মারুফের বাবা সাত্তার মন্ডলের সঙ্গে যোগযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। নিহত মারুফ ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তেন। নিহতের তালিকায় অপর তিন জন হলেন একই গ্রামের আবুল হোসেনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে মিজান, সোহরাব হোসেনের পুত্র শরীফ এবং কিতাব আলীর ব্যবসায়ী ছেলে শাহাদত্। টাঙ্গাইল অঞ্চল নৌথানার ওসি বাবর আলী খান জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পাওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু ডুবুরী দল ভাটির ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যর্থ হন। তাই মরদেহ উদ্ধারের আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। গোপালপুর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিখোঁজরা যে মারা গেছেন, সেটি তাদের পরিবারকে নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার একটি ইঞ্জিনচালিত পিকনিকের নৌকা বিকাল পাঁচটায় সিরাজগঞ্জের চায়না ঘাটের অদূরে ঢেউয়ের কবলে ডুবে যায়।