মিথ্যা মামলা দায়েরের জের ধরে শনিবার নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ও বাঁশরী এই দুই গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্য্যান শেখ আতিকুর রহমান রুমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি নিজেও সংঘাত থামাতে গিয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাঁশরী গ্রামের শরীফের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে মোতাহার হোসেন টিটু, নয়ন, সুমন, আরশ, আশাদুল, ইমরান, এরশাদ, লায়লাতুল মদন হাসপাতালে ভর্তি আছে ও বাকিরা স্থানীয় পল্লি চিকিত্সকের চিকিত্সাধীন আছে।
জানা যায়, ঈদুল আজহার দিন কেন্দুয়া তাম্বুলীপাড়া পার্কে যাওয়ার জন্য বাঁশরী ট্রলার ঘাটে নৌকায় যাত্রী ওঠা নিয়ে নায়েকপুর গ্রামের নৌকার মাঝি জাসদ ও বাঁশরী গ্রামের মাঝি নূরুল ইসলামের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এ ঘটনায় নায়েকপুর গ্রামের সবুজ ব্যাপারী বাদী হয়ে বাঁশরী গ্রামের হাজি জালালউদ্দিনসহ ২৫ জনকে আসামি করে মদন থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। এরই জের ধরে শনিবার সকালে বাঁশরী বাজারের পাশের খরই খালের ব্রিজে বাঁশরী গ্রামের সোহাগ গ্রুপের সঙ্গে নায়েকপুর গ্রামের শিপন গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ইট-সুরকি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন ঘণ্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খালিয়াজুরী সার্কেল জামালউদ্দিন জানান, একজন বয়স্ক হাজি ব্যক্তিকে চুরির মামলায় আসামি করায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে ট্রলার ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
