মির্জাপুরে বন্যায় পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে পৌর এলাকাসহ ১১টি ইউনিয়নের লাখো বাসিন্দা। বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় দুর্গ এলাকার বাসিন্দারা আছেন চরম ভোগান্তিতে। রবিবার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন খবর পাওয়া গেছে। মির্জাপুর পৌরসভার কুমারজানি, পুষ্টকামুরী, ত্রিমোহন, সরিষাদাইর, সাহাপাড়া, বাইমহাটি, আন্ধরা, কুতুব বাজার, সদরের বাইরে ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নের অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির, বিভিন্ন চিকিত্সাসেবা কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
সাটিয়াচড়া শিবনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহেড়া ইউনিয়নের আদাবাড়ি গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং বংশাই নদীর ত্রিমোহন ব্রিজ এলাকায় আশ্রয় নেওয়া বানভাসি পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত ২০-২৫ দিন ধরে তারা সীমাহীন দুর্ভোগে আছে বলে পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে।
আনাইতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বন্যায় জলাবদ্ধতার শিকার পৌরসভারসহ ১১ ইউনিয়নের বানভাসি পরিবারগুলো অনাহার-অর্ধাহারে দিন যাপন করছেন। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কিছু কিছু পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। রাস্তাঘাটের পাশাপাশি মত্স্য খামার, ফসলি জমি, সবজি, গাছপালা, গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় তারা ত্রাণসহায়তা বাড়ানোর জন্য প্রশসনের নিকট জোর দাবি জানান।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় বানভাসি অসহায় পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য সার্বিক চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া গেছে।
