রাজশাহীর ১৩ পৌরসভা

সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা আগাম প্রচারণায় মাঠে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২১:২৩

আনিসুজ্জামান, রাজশাহী

রাজশাহীতে পৌর নির্বাচনে আগাম প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আগামী জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ধরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুতি শুরু করেছে। বসে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রচারণায় এরই মধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজশাহীর বিভিন্ন পৌর এলাকা। রাজশাহীর ১৩টি পৌরসভার বর্তমান মেয়র এবং কাউন্সিলরসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অনেকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে ব্যানার ও বিলবোর্ড  টাঙিয়েছেন।

জানা যায়, দেশের ৩২৮ পৌরসভার মধ্যে ২৫৬টিতে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে। নির্বাচিত পরিষদ শপথ নিয়ে প্রথম সভা করেছিল ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। আইন অনুযায়ী, প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগেই ভোট গ্রহণ করতে হবে। সে হিসেবে অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই ভোট হবে। ফলে আনুষ্ঠানিক তপশিল না হলেও নির্বাচনী প্রচারণায় সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। বসে নেই রাজশাহীর ১৩টি পৌরসভা যথাক্রমে তানোর, মুন্ডুমালা, গোদাগাড়ী, কাকনহাট, তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, কেশরহাট, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, কাটাখালি, নওহাটা, আড়ানী ও চারঘাটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে উল্লেখিত পৌর এলাকার বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বিশেষ করে কারোনা মহামারির মধ্যে কর্মহীন, হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে ভোটারদের কাছাকাছি থাকতে চাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এছাড়া পৌরসভার হাটবাজার ও বিভিন্ন এলাকার মোড়ে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। বিগত ঈদুল আজহার সময়ে মোটরসাইকেল শো-ডাউন করেও অনেকে জানান দিয়েছেন নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়টি। তবে এবার প্রতিটি পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তরুণ মুখ। তানোর উপজেলার দুটি পৌরসভার মেয়র পদের একটি আওয়ামী লীগ এবং একটি বিএনপির দখলে। মুন্ডুমালা পৌরসভায় বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী। তানোর পৌরসভার বর্তমান মেয়র বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান মিজান ছাড়ও উভয় পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য নতুন মেয়র প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান এলাকায় ফেস্টুন-বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন। অন্যদিকে এই পৌরসভায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাবেক সভাপতি মোজ্জামেল হক করোনার সময় ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের ও ভোটারদের কাছে রয়েছেন। চলতি বছর তিনি মেয়র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং মাঠে কাজ করছেন। এদিকে গত নির্বাচনে তানোর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমরুল ইসলাম। তিনি বিএনপির প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমানের কাছে মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইমরুল ইসলাম ফের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে কাজ শুরু করেছেন। মাঠে আছেন বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজানও। এছাড়া রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা আবুল বাশার সুজনও মেয়র প্রার্থিতার দাবিতে মাঠে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত গোদাগাড়ী পৌরসভার বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান বাবু এবং কাকনহাট পৌরসভার বর্তমান মেয়র আব্দুল মজিদ পুনরায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উভয় পৌরসভায় ভোটের মাঠে রয়েছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক নতুন সম্ভাব্য প্রার্থী। এছাড়াও তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, কেশরহাট, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, কাটাখালি, নওহাটা, আড়ানী ও চারঘাট পৌরসভায় বর্তমান মেয়রসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনেকে বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে।