রপ্তানি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৬

দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা মেটানোর জন্য অধিকাংশ কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনের তুলনায় বিরাট অংশ আমদানি করে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, বছরে ৮০ হাজার কোটি টাকার খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্য আমদানি করা হয়। আমদানির তালিকায় প্রথম দিকেই রয়েছে ভোজ্য তেল ও তৈলবীজ। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা যায় ভোজ্য তেলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১২ লাখ টন গম উত্পাদনের বিপরীতে আমদানি করা হয় ৫৭ লাখ টন। ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও আমদানির তালিকায় আছে চাল, চিনি, দুধ, ক্রিম, সয়াবিন বীজ, ভুট্টা, পেঁয়াজ, পশুখাদ্য অয়েল কেক, আপেল, অন্য ফল, এমনকি মসলা। এছাড়া মোট আমদানি ব্যয়ের ১ শতাংশ ব্যয় হয় আটা, ময়দা, আদা, হলুদ, ছোলা ও মত্স্যজাত পণ্য আমদানিতে। সুপরিকল্পনার মাধ্যমে ওপরের অধিকাংশ কৃষিপণ্য বাংলাদেশের উর্বর মাটিতে উত্পাদন সম্ভব। কয়েক বছরের তুলনায় উত্পাদন বাড়লেও জনসংখ্যার অনুপাতে চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ, ঘাটতি পূরণে আমদানিনির্ভর হতে হচ্ছে। আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে নিতে হবে সময়োপযোগী ও ভিন্নধর্মী উদ্যোগ এবং কৃষি খাতে উন্নয়নের জোয়ার অব্যাহত রাখা। কৃষিজ পণ্য চাষ থেকে উত্তোলন পর্যন্ত ও প্রক্রিয়াকরণে সময়ের ব্যবধান কমাতে গুরুত্ব দিতে হবে কৃষি যন্ত্র ব্যবহারের দিকে। কৃষি খেতে চাষ, মাড়াই ও সেচব্যবস্থায় যান্ত্রিকীকরণের কিছুটা উন্নয়ন হলেও উত্পাদন ও উত্পাদন পরবর্তী কৃষি যন্ত্র ব্যবহার খুব একটা দেখা যায় না। কারণ, উত্পাদন পূর্ববর্তী কৃষি যন্ত্র ব্যবহার অনেকটা টেকনোলজি বেজড কিন্তু উত্পাদন ও তার পরবর্তী টেকনোলজির পাশাপাশি কৃষকের নিজস্ব দক্ষতারও প্রয়োজন হয়। ফলে, জমিতে বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে বিপুল পরিমাণ উত্পাদিত ফসল কৃষকের ঘরে তুলতে পারছেন না। ঘরে তোলা উত্পাদিত ফসল কৃষকের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের চাহিদা অনুপাতে খুব সামান্যই অবদান রাখতে পারে। যেখানে বাংলাদেশের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ, রপ্তানির আশা সেখানে দেওয়ালে প্রতিনিয়ত ধাক্কা খাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই দেশি পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার জন্য খাদ্যশস্যের এক দিকে যেমন বহুমুখীকরণ জোরদার করতে হবে অন্য দিকে সকল কৃষককে কৃষি যন্ত্র ব্যবহারে দক্ষ গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। ইতিমধ্যে খাদ্যশস্য বহুমুখীকরণ অনুসরণ করছে অনেক কৃষক কিন্তু এর বিস্তার ব্যাপকহারে বাড়াতে কৃষি কর্মকর্তাদের সোচ্চার থাকতে হবে। এক বিঘা কৃষি জমিতে ধানের আবাদ হয় ১০-১৬ মণ কিন্তু ভুট্টার আবাদ হয় ৩০-৩৫ মণ। ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি করে চাহিদা মিটিয়েও সহজেই রপ্তানিতে অবদান রাখা সম্ভব। দ্বিগুণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। আলু চাষ বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ফলন। আলু উত্পাদনে আয় অন্য কৃষিজ পণ্যের আয়ের চেয়েও দ্বিগুণ। যা রপ্তানিতে বিশাল অবদান রাখতে পারে। জিডিপির হার বৃদ্ধির জন্য প্রথমেই যে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে— (১) বিভিন্ন কৃষিপণ্য চাষ করতে কৃষকের অনাগ্রহের কারণ কি তা বের করে সমাধানের চেষ্টা এবং সেই সব কৃষিপণ্য চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা,  (২) কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল কিন্তু পরে অন্য পেশায় যাওয়ার কারণ, সকল কৃষকের বক্তব্যের একটি লিপিবদ্ধ চার্ট তৈরি করতে হবে সরকারকে এবং সমাধানের পথে হাঁটতে হবে, (৩) কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সঙ্গে একযোগে কাজ করা, (৪) গবেষণায় বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে, কারণ নতুন নতুন কৃষিপণ্যের উন্নতজাত উদ্ভাবনে গবেষণার বিকল্প নেই, (৫) প্রত্যেক জেলায় জেলায় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে তিন মাস অন্তর অন্তর কৃষিজ পণ্য কীভাবে চাষ করে, কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়, তা ডিজিটাল মাধ্যমে কৃষকদের দেখানোর ব্যবস্থা করা। অর্থাত্ সুপরিকল্পনার মাধ্যমেই আমদানি কমিয়ে রপ্তানিমুখী হতে পারবে বাংলাদেশ, হয়ে উঠবে ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ।           

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়