প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:১৭

n  মাহমুদুল কবির

 

অনেকে মনে করেন শীতে পানি কম পান করা উচিত। এটা ঠিক নয়। প্রতিদিন ন্যূনতম ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে। ঠাণ্ডা পানি পান করার ক্ষেত্রে অসুবিধা মনে হলে গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। শীতে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ হয়ে ওঠে। তাই শীতে পানি খাওয়ার পরিমাণ উলটো আরও বাড়িয়ে দেওয়া উচিত যেন ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা যায়। শীতকাল এলেই আমাদের পানি পান করতে ভালো লাগে না। পানি না পানের কারণে আমরা নানা ধরনের রোগে পড়ি। যেমন :হাত-পায়ে ব্যথা, বদহজম, মাথাব্যথাসহ নানা সমস্যা। তাই শীতের সময়ও দরকার আমাদের প্রচুর পানি পান করা।

কতটা পানি খাবেন তার কোনো নির্দিষ্ট মাপ নেই। কারণ আপনার স্বাস্থ্য, দৈনিক কার্যাবলির ওপর নির্ভর করে কতটা পানি আপনার উপযুক্ত। সাধারণ অবস্থায় পুরুষের দৈনিক ৩ লিটার বা ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা দরকার। প্রতি ১৫-২০ মিনিট ব্যায়াম করার পর ১ গ্লাস পানি পান করা দরকার। প্রেগন্যান্সির সময় ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা বেশি থাকে, তাই দিনে অন্তত ২.৫ লিটার বা ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। শরীরের প্রয়োজনীয় পানির ২০ শতাংশ আসে খাবারের সঙ্গে, বাকিটা পানি পান করে পূরণ করতে হবে।

পানি কেন পান করবেন

l কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে। l হার্ট অ্যাটাকের রিস্ক কমাতে। l কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা কমাতে। l ত্বক ভালো রাখতে। l মেটাবলিজম বাড়াতে। l এনার্জি লেভেল ঠিক রাখতে। l গিঁটে ব্যথা কমাতে। l শরীর থেকে টক্সিক জাতীয় পদার্থ বের করে দিতে। l হাই ব্লাড প্রেসার থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

পানি না খেলে কী কী হতে পারে

l পানির অভাবে ডিপ্রেশন বা ক্রনিক কেটিস সিনড্রম দেখা যেতে পারে। l শরীরে পানির অভাব মাইগ্রেনের একটা বড় কারণ। l শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে আমাদের মস্তিষ্কে তৈরি হওয়া এনর্জির মাত্রা বেশ কিছুটা হ্রাস পায়। l হজমের জন্য পানি খুবই জরুরি, তাই কোনো শক্ত খাবারের সঙ্গে বেশ খানিকটা পানি পান করা উচিত। l গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসারের ব্যথা, বুকজ্বালা থেকে অনেকটা রেহাই পেতে পানি খাওয়া দরকার প্রচুর পরিমাণে। l পানি আমাদের ফুসফুসকে আর্দ্র করে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের আনাগোনা সহজ করে তোলে। l পানি আমাদের শরীরের গিঁটগুলোতে লুব্রিকেন্টের কাজ করে, বিশেষত যখন আমরা নড়াচড়া করি। l পানির সাহায্য নিয়ে কিডনি আমাদের শরীরের বর্জ্য ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া আর ল্যাস্টিক অ্যাসিড সরিয়ে দেয়। পানির অভাবে এসব বর্জ্য পদার্থ জমে জমে কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।