আওয়ামী লীগের ওয়েবিনারে বক্তারা
বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে নয় একজন নীরব দক্ষ সংগঠক হিসেবে যিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়সম আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন তিনি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজিত ‘গৃহকোণ থেকে জনগণের হূদয়ে’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সাবেক ছাত্রনেতা ও কলামিস্ট সুভাষ সিংহ রায়ের সঞ্চালনায় আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমীর হোসেন আমু, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ও কবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত।
আমির হোসেন আমু আলোচনার শুরুতে বঙ্গমাতাকে বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে শোক ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কোনো পিছুটান ছিল না বলেই বঙ্গবন্ধু দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যেতে পেরেছিলেন, আর বঙ্গবন্ধুর এই চলার পথকে মসৃণ করেছিলেন তার স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি বলেন, বেগম মুজিবের মধ্যে কিছু ঐশ্বরিক ক্ষমতা থাকতে পারে নয় তো যে বয়সে ছেলেমেয়েদের বাবা-মার কাছে আবদার থাকে সেবয়সেও বেগম মুজিব বায়না না করে বঙ্গবন্ধুর হাতে তার জমানো টাকা তুলে দিতেন যাতে বঙ্গবন্ধুর কলকাতাতে কষ্ট না হয়। এই যে তার ত্যাগ, সেই ত্যাগের বিনিময়েই বঙ্গবন্ধুর কিন্তু বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা।
মেহের আফরোজ চুমকি আলোচনার শুরুতে ১৫ আগস্টের নিহত শহিদদের কথা স্মরণ করে বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বঙ্গমাতাকে দেখার, বাবার সঙ্গে ৩২ নম্বর বাড়ি গিয়েছিলাম একবার। তাকে দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম, এত বড় একজন মানুষের স্ত্রী এত সাধারণ হবে আমার ধারণাই ছিল না।
অজয় দাস গুপ্ত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সম্পর্কে নানা জানা-অজানা কথা তুলে ধরেন। তিনি তার প্রবন্ধে বঙ্গমাতাকে একজন শান্ত ধীরস্থির ধৈর্যশীল সাহসী প্রজ্ঞাবান এবং অমায়িক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, পৃথিবীতে কিছু মহীয়সী নারী আছেন যারা একজন মহামানবকে তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন আমাদের বঙ্গমাতা বেগম মুজিব তাদের মধ্যে একজন। বঙ্গবন্ধুর যে তিন খণ্ড আত্মজীবনী বের হয়েছে, সেগুলো লিখতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন বঙ্গমাতা।
ড. নাসরীন আহমদ বলেন, আমরা প্রতিবেশি ছিলাম, দুই বাড়ির মধ্যে ছোট একটা দেয়াল, একটা ছোট গেট। সেই গেট দিয়ে আমাদের অবাধ যাতায়াত ছিল। তাদের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন থেকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবাধ যাতায়াত ছিল, আর এসব সামলাতেন বঙ্গমাতা।
আলোচকরা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবনে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ভূমিকা, বঙ্গবন্ধু জেলে থাকা অবস্থায় বেগম মুজিবের দলকে সুসংগঠিত করা ছাড়াও বঙ্গমাতার অনেক অজানা বিষয় সম্পর্কেও আলোকপাত করেন।
