সুন্দরবনে জেলেদের মারধর করে ইলিশ লুটের অভিযোগ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯:২৪

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজের বিরুদ্ধে সুন্দরবনে জেলেদের মারধর করে ইলিশ মাছ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরে আহত জেলে মামুন (৩৫) সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জেলেরা অভিযোগ করেছেন।

শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আ. হক খানের পুত্র জেলে মামুন (৩৫) সাংবাদিকদের জানান, তারা বন বিভাগ থেকে পারমিট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরতে যান। প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে রবিবার বিকেলে তারা ইলিশ ধরে সাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের বালুর খালে অবস্থান করছিলেন। এসময় শরণখোলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ একটি ট্রলারে করে তার লোকজন নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা লাঠি সোটা নিয়ে জেলেদের মারপিট করে এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এসময় জেলেদের ট্রলারে থাকা ৩৮ পিস ইলিশ মাছ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। 

মারপিটে আহত অন্য জেলেরা হচ্ছেন, উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হেমায়েত হাওলাদারের পুত্র রাসেল (২০), আনেছ হাওলাদারের পুত্র রাসেল (২২), নুর হোসেন ফরাজির পুত্র নান্টু (৪০), ছায়েব আলী মল্লিকের পুত্র নুর ইসলাম (৫০) ও দেলোয়ার হাওলাদারের পুত্র আনোয়ার (৪০)। 

আহত জেলেরা জানায়, ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজের দাবি বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা তার দখলে। ওই স্থানগুলোতে মাছ ধরা বা অবস্থান করলে তার অনুমতি লাগবে। ২৫ হাজার টাকা দিয়ে তার অনুমতি না নিয়ে ওই স্থানে অবস্থান করায় তিনি জেলেদের ওপর হামলা করেন। 

জেলেরা জানান, এসময় ভাইস চেয়ারম্যানের সাথে ছিল উপজেলার বকুলতলা গ্রামের সাবেক বনদস্যূ আলম হাওলাদার (৪৫), সাবেক বনদস্যূ বাহিনীর প্রধান ছাত্তারের ছোট ভাই নাছির হাওলাদার (৪০), একাধিক মাদক মামলার আসামি জাহিদ (৪৩), সোনাতলা গ্রামের আ. মালেক হাওলাদারের পুত্র হত্যা মামলার আসামি জাকির (৪২)।

সুন্দরবনের মাছ ব্যবসায়ী এমাদুল শরিফ, খলিলুর রহমান মৃধা, জাহাঙ্গির হোসেন হিরু, রহিম হাওলাদার, শাহআলম জানান, সুন্দরবনে ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ লোকজন নিয়ে জেলেদের ওপর হামলা ও মাছ লুট করে নেওয়ার ঘটনার বিচার দাবি করেন।

সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ বন বিভাগরে অনুমতি না নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে আশ্রয় নেওয়া জেলেদের মারপিট করেন।’

আরও পড়ুন: মাস্ক না পরলে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত

সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ডালিম জানান, তাদের গ্রামের মামুনসহ বেশ কিছু জেলে প্রায় ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় মাছ ধরে আসছে। কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান তার আধিপত্য বিস্তার করতে জেলেদের মারপিট করে চরম অন্যায় করেছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ইলিশের পারমিট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কিছু জেলেদের ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ মারপিট করেছে বলে তাকে জানিয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান কিভাবে সেখানে গেল তার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, ‘মৌখিকভাবে এ অভিযোগ পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত জেলেদের সাথে বলে ঘটনার বর্ণনা শুনেছেন। এখন লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ মুঠোফোনে জেলেদের মারধর ও মাছ লুটের  কথা অস্বীকার করে জাল পাতা নিয়ে মতবিরোধে মামুন কে দুটি চড় দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। 

ইত্তেফাক/এএএম