প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার বৈঠক শেষে বাফুফে জানিয়েছে নতুন মেয়াদের নির্বাচন হবে আগামী ৩ অক্টোবর। দীর্ঘ বৈঠক হলেও সেখানে অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে সভা শেষে জানিয়েছেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। গত ৩০ এপ্রিল বাফুফের মেয়াদ শেষ হয়। তার আগেই ২০ এপ্রিল ছিল বাফুফের নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ। কিন্তু করোনার কারণে ফিফা নির্বাচন না করার পক্ষে মত দিয়েছিল। সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলব না। লক্ষ্য করবেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও লিগের খেলা হয়ে গেছে। চ্যাম্পিয়নও হয়ে গেছে।’ তারপরও ফিফা এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনের বিষয়টি জানাবে বাফুফে। সালাম মুর্শেদী ঘোষণা করেন, ‘আগামী ৩ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচন হবে। ১৩৯ জন কাউন্সিলরকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চুলচেরা বিশ্লেষণে চূড়ান্ত কাউন্সিলর তালিকা অনুমোদন হয়েছে। যেখানে ক্লাব, জেলা বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমাদের অডিট পাশ হবে কংগ্রেসে।’ কাউন্সিলর বিতর্কে অনিয়মের প্রশ্নে সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আমরা এমন কোনো কাজ করব না যা গঠনতন্ত্র বিরোধী।’ একই বিষয়ে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘বেশ কিছু কাউন্সিলরের বিষয়ে নির্বাহী কমিটি ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিল। সেগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট হলেই কাউন্সিলর তালিকা অনুমোদন দেয় কমিটি।’
এই সংবাদ সম্মেলনের পর বাফুফের সহসভাপতি তাবিথ আওয়াল কাউন্সিলর বিতর্কে বলেন, ‘একেবারে ফ্রেস কেউ কাউন্সিলর হয়নি। নতুন কেউ কাউন্সিলর হতে চাইলে তার জন্য এজিএমর অনুমতি নিতে হবে। যে কয়েকটি কাউন্সিলর করা হয়েছে তাদের কিছু কিছু সমস্যা ছিল। সেগুলো কাটিয়ে উঠেছে বলে তারা কাউন্সিলরশিপ পেয়েছে। এরা বাইরের কেউ না।’
গতকালকের সভায় প্রিমিয়ার ফুটবলের নতুন মৌসুম নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাম মুর্শেদী। এবছর লিগ হবে কি না সেটা পরিষ্কার করেননি তিনি। শুধু জানিয়েছেন ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসে আলোচনা করে ২০২০-২০২১ মৌসুম নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। গতকালকের সভায় সহসভাপতি বাদল রায়, সদস্য শেখ মো. আসলাম ছিলেন না। সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনসহ ১৪ জন উপস্থিত থাকলেও ছিলেন পাঁচ জন। সালাম জানিয়েছেন, নতুন বছরের জন্য ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার বাজেট পাশ হয়েছে। প্রশিক্ষণ, জেলা, পাইওনিয়র ফুটবল, তৃণমুলের ফুটবল, জাতীয় দলের ব্যয়সহ প্রভৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘাটতি থাকবে ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সালাম বলেন, ‘করোনার কারণে ফিফার দেড় মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১ মিলিয়ন ফুটবলের বিভিন্ন খাতে খরচা হবে আর বাকিটা নারী ফুটবলের জন্য ব্যয় হবে।’
