নড়াইলে মধুমতী নদীর ভাঙনে আতঙ্কে আছেন জেলার লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের চরসূচাইল, চরপাঁচাইল, চরপরাণপুর ও চরঘোণাপাড়া গ্রামবাসী। এ চারটি গ্রামের শতাধিক পরিবার এখন নিঃস্ব। পানির চাপ ও স্রোতে ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এ চার গ্রামের অধিকাংশ বসতবাড়ি, গাছপালাসহ কৃষিজমি। বর্তমানে মধুমতি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরসূচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার দাবি করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। ইতনা ইউনিয়নের চরসূচাইল গ্রামের শেখ আব্দুল মান্নান বলেন, ১০ বছর ধরে মধুমতী নদীর অব্যাহত ভাঙনে আমরা দিশেহারা। চরসূচাইল, চরপাঁচাইল, চরপরাণপুর ও চরঘোণাপাড়া এ চারটি গ্রামের লোকজন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত চরসূচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। চরসূচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। প্রথম দিকে ২০০ ছাত্রছাত্রী পেলেও নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। স্কুল মাঠটিও নেই, এক বছর আগে মধুমতী নদীর গর্ভে চলে গেছে। এখন টিনশেডের পাকা ঘরটির কাছেই ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন থেকে মাত্র ১০ ফুট দূরে আছে স্কুল ঘরটি।
নড়াইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল কুমার সেন বলেন, মধুমতী নদীর ভাঙন থেকে চরসূচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ইতনা ইউনিয়নের চারটি গ্রাম রক্ষায় আপত্কালীন কাজ করার জন্য ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছিল। এরই মধ্যে ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ টাকায় ৮০ মিটার কাজ করা যাবে। আমরা এ টাকা দিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চরসূচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মধুমতী নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য কাজ শুরু করব। পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে বাকি কাজ করা হবে।
