সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। ফিফার এক চিঠি বাংলাদেশ ফুটবল দলের সব পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ চায়না এশিয়ান কাপ ফুটবল বাছাই স্থগিত। শুধু বাংলাদেশই নয়, এশিয়ার সব খেলাই স্থগিত করেছে ফিফা। গতকাল দুপুরে আনুষ্ঠানিক পত্র পেয়ে বাফুফে জানিয়ে দিয়েছে ফিফা ঘোষিত অক্টোবর এবং নভেম্বরের সূচি স্থগিত করা হয়েছে। এই খেলাগুলো আগামী বছর, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হবে। কখন হবে সেটা ফিফা পরে জানাবে বলে জানিয়েছে বাফুফে।
আগের বার স্থগিত হয়েছিল কোভোডি-১৯, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে। আর এবার স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে। কাতার বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপের খেলাগুলো ছিল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতির। এক দেশ আরেক দেশে যাবে আসবে। কিন্তু এই যাওয়া আসার বিমান চলাচলে নিশ্চয়তা দেখছে না ফিফা।
বাফুফে জানিয়েছে, বাংলাদেশ যাদের বিপক্ষে খেলবে, সেই এশিয়ার দেশ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিধিনিষেধসহ ফ্লাইট জটিলতায় ফিফার কোয়ালিফায়ার্স প্রিলিমিনারি জয়েন্ট কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড-২-এর খেলা স্থগিত। খবর পেয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। ফিফার খবরে জেমির পরিবার খুশি। তিনিও এখন আর ঢাকায় না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১৭ আগস্ট তার ঢাকায় ফিরে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে সারা রিসোর্টের ক্যাম্পে আইসোলেশনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এখন বাফুফের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন জেমি।
আগামী ৮ অক্টোবর সিলেটে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ফিরতি ম্যাচ ছিল। এএফসি সিলেট ভেন্যুর অনুমোদনও দিয়েছিল। পাঁচ দিন পর ১৩ অক্টোবর কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফিরতি ম্যাচ ছিল দোহায়। আর ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল ১২ নভেম্বর এবং ১৭ নভেম্বর ওমানের বিপক্ষে। এ দুটিও বাংলাদেশের গ্রুপের ফিরতি ম্যাচ ছিল। খবর পেয়েছেন সারা রিসোর্টে অবস্থান করা প্রাথমিক ক্যাম্পে থাকা ফুটবলাররা। আচমকা এ খবরটি সহজভাবেই নিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম রানা, তপু বর্মনরা। তারা গতকাল বিকালেও ফিটনেস ট্রেনিং করছিলেন। আজ হতে ক্যাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সাত ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত
ক্যাম্পে রেখে ফুটবলারদের করোনা টেস্ট করা হয়েছিল। প্রাভা হেলথ ও আইসিডিডিআরবি প্রতিনিধিরা ক্যাম্পে গিয়ে ৩০ জন ফুটবলার এবং ছয় জন কর্মকর্তা এবং স্টাফের নমুনা সংগ্রহ করে। বগুড়ায় নাবীব নেওয়াজ জীভন ছাড়া যারা ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছিলেন তাদের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। তাতে ২৬ জন ফুটবলারের নেগেটিভ আর সাত জন পজিটিভ হয়েছেন। এরা হলেন বসুন্ধরার গোলকিপার জিকো, বিশ্বনাথ ঘোষ, রবিউল হাসান। আবাহনীর গোলকিপার সোহেল, টুটুল হোসেন বাদশা। সাইফের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এবং ম্যাথিউস বাবলু। আক্রান্তদের চিকিত্সা ব্যবস্থা করবে বাফুফে। পর্যবেক্ষণে থাকবেন আবাহনীর রিয়াদুল হাসান ও রায়হান হাসান এবং চট্টগ্রাম আবাহনীর রাকিব হোসেন।
