Åবন্ড সুবিধার অপব্যবহারে ক্ষতির মুখে স্থানীয় বস্ত্রশিল্প
Åচার দিনের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টসের মেশিনারির প্রদর্শনী শুরু হচ্ছে কাল থেকে
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত টেক্সটাইল (বস্ত্র) খাতে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। আর গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। তবে টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ জানিয়েছে, চাহিদার কারণে এ খাতে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। চার দিনের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল যন্ত্রপাতির প্রদর্শনীর তথ্য জানাতে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস মেশিনারি প্রদর্শনীতে (ডিটিজি) ৩৭টি দেশের ১ হাজার ২শ’ প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
বর্তমানে গার্মেন্টস পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বস্ত্রের চাহিদার পুরোটা এ খাত থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক বস্ত্রখাতের মিলগুলো নিটওয়্যার গার্মেন্টসের প্রায় ৮৫ শতাংশ ও ওভেন গার্মেন্টসের প্রায় ৪০ শতাংশ কাঁচামাল সরবরাহ করে। কিন্তু চাহিদার পুরো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে আগামী পাঁচ বছরে নতুন করে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সময় জানানো হয়, গত পাঁচ বছরে বিটিএমএতে নতুন করে ৪৪টি বস্ত্রকল সদস্যভুক্ত হয়েছে। এসব মিলের সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।
অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে এ খাতের বেশকিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়। মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, গত দুই বছরে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে টেক্সটাইল পণ্যের উত্পাদন খরচ বেড়েছে। কমেছে মিলগুলোর সক্ষমতা। এর পাশাপাশি জমির স্বল্পতা, বিভিন্ন হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে।
অন্যদিকে বন্ড ব্যবস্থাপনার অপব্যবহার ও মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে দেশে বিদেশি সুতা, ফেব্রিক, সালোয়ার, কামিজসহ অন্যান্য বস্ত্র অবৈধভাবে প্রবেশ করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এসব কারণে দেশের বস্ত্র কলগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলে বলা হয়, ইতোমধ্যে ৫০ হাজারের অধিক লুম (তাঁত) বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষত যেসব স্পিনিং মিল স্থানীয় চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সুতা তৈরি করছে, সেগুলোতে গত কয়েক মাস যাবত্ কয়েকশ’ কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত রয়ে গেছে। অন্যদিকে রপ্তানিমুখী মিলগুলো তুলার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সুতা বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারল্য সংকটে ভুগছে।
এ সময় গ্যাসের সংকটের বিষয়টিই বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। নিজের কারখানার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, গ্যাসের দর বাড়ার কারণে আমাকে বছরে ১২ কোটি টাকা বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে। এটি আমার হিসাবের মধ্যে ছিল না। ফলে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের অংশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের এলএনজি আমদানিকে স্বাগত জানিয়ে এর দর সহনীয় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সহনীয় মূল্য যাতে একটি গ্রহণযোগ্য সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অন্যথায় গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকলেও এর সুফল পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ উত্সাহিত করতে সরকারের এ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইলের মেশিনারির এ প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করছে বিটিএমএ ও হংকংয়ের ইয়র্কার ট্রেড এন্ড মার্কেটিং সার্ভিসেস। আগামীকাল দুপুরে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রদর্শনী প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলবে।
