সাভারে খামারে বিষ ঢেলে মাছ মারার অভিযোগ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৭

সাভারে খামারে বিষ ঢেলে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০০ টন মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে জিরাবো এলাকার দেওয়ান ইদ্রিস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকার একটি খামারে গিয়ে মরা মাছের স্তূপ দেখা গেছে। এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে মরা মাছের দুর্গন্ধ। খামারি শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী বলেন, তারা পাঁচ ভাই প্রায় ৪০ বিঘা বিস্তৃত খামারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাছের চাষ করে আসছেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাত্ খামারের মাছগুলো মরে পানিতে ভেসে উঠতে শুরু করে। প্রায় ১০০ টন মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠায় তাদের অন্তত ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তার দাবি।

তার বড় ভাই শরিফুল ইসলাম ব্যাপারী আলমাস বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় ২২ বছর ধরে মাছের চাষ করলেও বিগত দিনে এমন ঘটনা ঘটেনি। কেউ পূর্বশত্রুতার জেরে পানিতে বিষ মিশিয়ে দিতে পারে। দুর্বৃত্তরা শুধু মাছই মারে নি, তারা জেলেসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকের জীবিকায় বিষ দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা সাভার উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তরের নথিভুক্ত চাষি। ২০১৬ সালে তারা সাভার উপজেলার সেরা মত্স্য উদ্যোক্তা নির্বাচিত হন। তিনি বিষ প্রয়োগকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।  

সাভার উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, পুকুরে মাছ মরে ভেসে ওঠার খবর পেয়ে তাদের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে পানি পরীক্ষা করে তাতে সমস্যা পাওয়া গেছে। পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম এবং অ্যামেনিয়া ও পিএইচের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। যদিও পুকুরের মালিকরা অভিযোগ করেন, বিষ প্রয়োগে তাদের মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পানিতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না তা নিরূপণের কোনো যন্ত্রপাতি মত্স্য অধিদপ্তরে না থাকার কারণে তারা পরীক্ষা করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, সাধারণত পানিতে পিএইচ থাকার কথা সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮ মাত্রা সেখানে পাওয়া গেছে ৯-এর ওপরে। যদিও অ্যামোনিয়া থাকার কথা .০৫ মাত্রা, পাওয়া গেছে .৫ মাত্রা, যা অনেক বেশি এবং যেখানে অক্সিজেন থাকা  দরকার সর্বনিম্ন ৫ মাত্রা, সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ২ মাত্রা।