ভারানী খাল ও কুশিয়ারা বালুমহাল রক্ষা করুন

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৬

বরগুনার ভারানী খাল ও সিলেটের কুশিয়ারা বালুমহাল রক্ষায় নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভারানী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এক মাসের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বরগুনার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। এ ছাড়া ওই খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করা এবং স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখতে না পারায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে কেন সংরক্ষণ করা হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত বরগুনা জেলা শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ নদীর (পায়রা ও খাকদোন) সংযোগ সৃষ্টিকারী বিধায় ভারানী খালের গুরুত্ব অপরিসীম। খাল সংলগ্ন গ্রামবাসীর মালামাল আনা-নেওয়া ও সহজ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবেও এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কয়েক বছর আগেও খাল দিয়ে ছোট ছোট লঞ্চ, মালবোঝাই কার্গো, ট্রলারসহ নৌকা চলাচল করতো। এলাকার জেলে সম্প্রদায় এ খাল ব্যবহার করেই এক নদী হতে অন্য নদীতে মাছ ধরার জন্য যাতায়াত করতো।

বরগুনা পৌরসভার বরগুনা মৌজার ৭৮৯ দাগে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খালটির উভয় পাড়ে ১৩৫ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রস্তুত করেছে বরগুনা ভূমি অফিস। এ খালের বাকি অংশে কোনো অবৈধ দখলদার পরিলক্ষিত না হলেও ওয়াপদা কর্তৃক সড়ক নির্মাণের ফলে খালটি সংকুচিত হয়েছে। সেইসঙ্গে সংস্কারের অভাবে খালটি পৌরসভা অংশে নাব্য সংকটে পড়েছে। খালটি রক্ষার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি। পরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে রিট করে। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আলী মুস্তাফা খান।

এদিকে সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা নদীতে অবস্থিত কুশিয়ারা বালুমহালের উপর পরবর্তী বছর হতে লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমান ইজারা মেয়াদ শেষ হলে আর ইজার দেওয়া যাবে না।

কুশিয়ারা নদী বালুমহাল থেকে চুক্তি বহির্ভূতভাবে যান্ত্রিক উপায়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভেঙে যাওয়া, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাসহ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ে। পরে হাইকোর্টে ওই বালুমহাল রক্ষার নির্দেশনা চেয়ে রিট করে বেলা। সংগঠনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সাঈদ আহমেদ কবীর।