ভরা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে ইলিশের দেখা নেই। সাগরে জাল ফেলে ইলিশ না পেয়ে খালি বোট নিয়ে জেলেরা ফিরে আসছেন। অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার দিশেহারা জেলে মত্স্যজীবীর জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
জাতীয় মত্স্যজীবী সমিতির শরণখোলা শাখা সভাপতি আবুল হোসেন জানান, দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে এ পর্যন্ত তিন বার মাছ ধরার জন্য সাগরে ফিশিং বোট পাঠানো হয় কিন্তু সাগরে মাছ না পেয়ে খালি বোট নিয়ে জেলেরা ঘাটে ফিরে এসেছে। ফলে প্রতি বোটে লক্ষাধিক টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে। বোটমালিকরা ব্যাংক ও এনজিওদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও বোট প্রস্তুত করে সাগরে মাছ ধরতে পাঠান। মাছ না পাওয়ায় কীভাবে তারা ঋণ শোধ করবেন সে চিন্তায় এখন তাদের চোখে ঘুম আসে না বলে তিনি জানান। বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে অথচ সাগরে ইলিশের দেখা নেই গভীর সাগর ও কক্সবাজার অঞ্চলে কম-বেশি ইলিশ পাওয়া গেলেও দক্ষিণ ও পশ্চিম উপকূলের সাগর ও নদীতে ইলিশ মিলছে না ফলে হাজার হাজার সাধারণ জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থকষ্টে রয়েছেন। দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বিশিষ্ট মত্স্য ব্যবসায়ী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ এ ব্যাপারে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সুন্দরবন উপকূলে ইলিশ ধরা না পড়লেও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, ভোলা, কুয়াকাটা উপকূলে ব্যাপকভাবে ইলিশ ধরা পড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব উপকূলের মেঘনা, কর্ণফুলী, ফেনী, শাহবাজপুর, পায়রা ইত্যাদি নদী দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে যাচ্ছে। এসব নদী দিয়ে মিঠাপানি প্রবাহিত হওয়ায় নদীর মোহনা ও নদীবক্ষে ইলিশের পরিভ্রমণ বেশি। পক্ষান্তরে সুন্দরবন অঞ্চলের নদী দিয়ে লোনাপানি সাগরে পতিত হওয়ায় ইলিশ মাছের পরিব্রাজন এলাকা পশ্চিম উপকূল থেকে পূর্ব উপকূলে চলে গেছে। তাই সুন্দরবন উপকূলের সাগরে জাল ফেলে ইলিশ না পেয়ে জেলেরা হতাশ হয়ে ফিরছেন। এমনকি গত ২৪ দিনে তার জেলে বহরের ২৪টি ফিশিং বোট পাঁচ মণ ইলিশ পায়নি। এতে বোটমালিকরা লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনছেন। মৌসুম প্রায় শেষ, আগামী কয়েক দিনে সাগরে ইলিশ পাওয়া না গেলে বোটমালিক ও জেলেদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে তিনি জানান।
