চট্টগ্রাম বন্দরের শেডে বিপজ্জনক পদার্থ বিস্ফোরণের আশঙ্কা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৯

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শেডে পড়ে থাকা বিপজ্জনক পদার্থ থেকে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। নানা জটিলতায় দিনের পর দিন বন্দরে পড়ে থাকা এরকম রাসায়নিক ও বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থের সন্ধানও মিলছে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিস্ফোরণের ঝুঁকির মধ্যেই আছে। এ ধরনের পদার্থ বন্দর শেডে কীভাবে সংরক্ষিত হবে, কীভাবে এগুলোর সতর্ক হ্যান্ডলিং হবে এবং কতদিনই বা এগুলোকে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভেতর রাখা যাবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রণয়ন বা অনুসরণ করেনি বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বন্দরের শেডে ২৮ বছর ধরে পড়ে থাকা বিস্ফোরণযোগ্য পদার্থের সন্ধানও মিলেছে। এরকম পদার্থ আরো থাকতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পাশাপাশি তারা বলছেন শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের শেডই নয়, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এবং তার সঙ্গে সংলগ্ন আমির মার্কেটের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন গুদামে খুবই বিপজ্জনকভাবে রাখা আছে বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, বিস্ফোরক ও অতি দাহ্য পদার্থ। এগুলোর অধিকাংশই আমদানিকৃত। অন্যদিকে গত মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের পুরোনো পণ্য রাখার একটি শেডে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিশেষজ্ঞ সূত্রগুলো। ঐ অগ্নিকাণ্ডে বন্দর থেকে নিঃসৃত কালো ধোঁয়া আকাশ আচ্ছন্ন করে ফেললে আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় নির্দিষ্ট শেড ও ইয়ার্ডে পড়ে থাকা রাসায়নিক ও বিস্ফোরক পদার্থ সরিয়ে নিতে দুটি কমিটি কাজ করছে। ঢাকা বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজকে চিঠি দেওয়া হয়েছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহের প্রান্তিকে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, বন্দরে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিস্ফোরক পদার্থ শনাক্তে কাস্টমস কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কাস্টমস হাউজকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিস্ফোরক পদার্থের একটি তালিকাও দিয়েছে। এখন প্রয়োজনে বিপজ্জনক পদার্থগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পদার্থগুলো ডেলিভারি নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আমদানিকারককে চিঠি দেওয়া হবে, যেগুলো নিলামযোগ্য সেগুলো দ্রুত নিলাম করা হবে, সন্দেহজনক পদার্থগুলোর ল্যাবরেটরি টেস্ট করা হবে, দাবিদারহীন দীর্ঘদিন পড়ে থাকা রাসায়নিক ও বিস্ফোরক পদার্থগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে অবিলম্বে ধ্বংস করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, রাসায়নিক ও বিস্ফোরক পদার্থ সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ‘পি’ শেডে রাখা হয়ে থাকে। এখানে এবং অন্যত্র এ ধরনের কোনো পদার্থ পড়ে আছে কি না, তা শনাক্ত করে অপসারণ এবং তালিকা প্রস্তুতের জন্য বন্দরের সদস্য হারবার অ্যান্ড মেরিন কমডর শফিউল বারিকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজ চলছে।