গতকাল রবিবার দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘ফুটবলকে বাঁচাবে কে?’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সরকারের বরাদ্দ ২০ কোটি টাকার মধ্যে ১০ কোটি টাকা বাফুফে খরচ করতে পারলেও তার সঠিক হিসাব দিতে না পারায় বাকি টাকা আটকে দিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।’ আর বাফুফের ব্যাখ্যায় বলা হয়, তথ্যটি অসত্য। সরকারের বরাদ্দ ২০ কোটি টাকার সবটাই বাফুফে পেয়েছে এবং গৃহীত পথম কিস্তির ১০ কোটি টাকার সঠিক হিসাবও দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাফুফের বিভিন্ন স্তরে যেসব ফুটবল সংগঠক রয়েছেন, তাদের অধিকাংশই এখন ‘ফুটবলজীবী’। অন্য কোনো পেশা তাদের না থাকলেও ফুটবল দিয়ে তাদের জীবিকা ঠিকই চলছে। বাফুফেতে এমন কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাদের নিয়মিত বাজার খরচ বাফুফে থেকে ম্যানেজ হচ্ছে। এই তথ্যকেও মিথ্যা বলেছে বাফুফে। তাদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাফুফেতে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তরাই শুধু বেতন পেয়ে থাকেন। আর কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা কার্যনির্বাহী পর্ষদ পুরো বাফুফের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তারা সবাই সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি।
বিগত ১২ বছর ধরে প্রতিনিয়ত ফুটবল লিগ আয়োজিত হচ্ছে এবং ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ’, ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ’-এ অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়েরা প্রতি মৌসুমেই ফুটবল খেলার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন। প্রতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ, ১ম বিভাগ ফুটবল লিগ, ২য় বিভাগ ফুটবল লিগ, ৩য় বিভাগ ফুটবল লিগ, স্কুল ফুটবল লিগ, পাইওনিয়ার ফুটবল লিগ, জেলা ফুটবল লিগ এবং মহিলা ফুটবলের বিভিন্ন ইভেন্টের মাধ্যমে দেশব্যাপী ফুটবল খেলা আয়োজিত হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য হাই প্রোফাইল কোচিং স্টাফ নিয়োগসহ সুযোগ্য টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর বাফুফে কর্তৃক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে এবং ফিফা ও এএফসির কাছ থেকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাফুফে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক তহবিল পাচ্ছে, যা দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে।
ফুটবল কোচিং ও রেফারিং সম্পর্কিত বিষয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাফুফের বিভিন্ন উদ্যোগ সর্বজনবিদিত। ফিফার আর্থিক সহযোগিতায় মতিঝিলে বাফুফে ভবনসংলগ্ন মাঠে আর্টিফিশিয়াল টার্ফ এবং কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আর্টিফিশিয়াল টার্ফ স্থাপনসহ এএফসির আর্থিক সহযোগিতায় মাদারীপুর, নীলফামারী ও ফেনীতে মিনি আর্টিফিশিয়াল টার্ফ স্থাপন করাসহ ফিফা/এএফসির সহায়তায় বছরব্যাপী মতিঝিলের বাফুফে ভবনে মেয়েদের আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজনে কাজী সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী কমিটির সফলতার পরিচয় বহন করে। এসবের মাধ্যমে ‘নিয়মিত খেলার আয়োজন না থাকা, ভালো খেলার জন্য অবকাঠামোর উন্নয়ন না করা, ফুটবলারদের সন্তোষজনক পারিশ্রমিক না দেওয়া, নিয়মিত ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন না থাকা, সংগঠকদের দলাদলিসহ নানা কারণে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে ফুটবল’ মর্মে প্রতিবেদনে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সত্য নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভবিষ্যতে ফুটবলের মানোন্নয়নের আদৌ সম্ভাবনা নেই। এমনকি ফুটবলকে একটি মানে পৌঁছানোর জন্য ব্যক্তিবিশেষের উদ্যোগকেও কীভাবে নস্যাত্ করা যায়, তার প্রচেষ্টা দেখা গেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মধ্যে।’—এ কথাকে বাফুফে কল্পনাপ্রসূত বলেছে। বাফুফে কর্তৃক ফুটবল সম্পর্কিত যে কোনো পর্যায়ের যে কোনো উদ্যোগকে সর্বদা সাধুবাদ জানানো হয় এবং প্রতিনিয়ত সেই আলোকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতাও প্রদান করা হয়। সম্প্রতি করোনার সময়ে দেশের অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় বাফুফে ফুটবল খেলার আয়োজন বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় কিছু কিছু ফুটবল খেলোয়াড় বিভিন্ন পেশায় মনোনিবেশ করলেও ফুটবল খেলা/লিগসমূহ আয়োজনের বিষয়ে বাফুফে ইতিমধ্যে বাস্তবধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদক রিপোর্টে পাতানো খেলার অভিযোগ করেছেন। এর ব্যাখ্যায় বাফুফে বলেছে, পাতানো খেলা বন্ধে ও এর শনাক্তকরণে বাফুফে কর্তৃক নিয়মানুযায়ী গঠিত ‘পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটি’ নিয়মমাফিক কাজ করছে এবং তারা এ বিষয়ে নিয়মিত তাদের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি পাতানো খেলা সম্পর্কে বাফুফে কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সর্বজনবিদিত।
