পর্যটনে নূতন করিয়া প্রাণ সঞ্চারিত হউক

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৪

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলি খুলিয়া দেওয়া হইয়াছে গতকাল। করোনা দুর্যোগের কারণে প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকিবার পর পর্যটনকেন্দ্রগুলি আবার জাগিয়া উঠিতেছে। বাড়িতেছে প্রাণচাঞ্চল্য। করোনা মহামারি হইতে সকলেই শিক্ষা গ্রহণ করিতেছেন। পর্যটন খাতে এই শিক্ষার প্রধান দিকটি হইল সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। সকল প্রকার দূষণকে এখন হইতে আমাদের ‘না’ বলিতে হইবে। সাম্প্রতিক কালে আমাদের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে দেশীয় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়িলেও বিদেশি পর্যটকদের আগমন আশাব্যঞ্জক নহে। অথচ অধিকসংখ্যক বিদেশি পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা না গেলে এবং তাহাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা না হইলে আমাদের পর্যটনশিল্প করোনা-উত্তর পরিস্থিতিতে ঘুরিয়া দাঁড়াইতে পারিবে না।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশে পর্যটন খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হইয়াছে। এই খাতে বেকার হইয়া পড়িয়াছে ৪০ লক্ষ জনবল। তাহাদের উপর নির্ভরশীল কমপক্ষে দেড় কোটি মানুষ আছেন কঠিন বিপদের মধ্যে। প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেলস অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প গত জানুয়ারি হইতে জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হারাইয়াছে। এই জন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলি আরো পূর্বে খুলিয়া দেওয়া উচিত ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে সীমিত আকারে সৈকততীরের হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলিয়া দেওয়ায় এখন যেন হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচিয়াছেন এই শিল্পের সহিত জড়িত কয়েক লক্ষ মানুষ। তাহাদের এখন শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব মানিয়া চলিতে হইবে। মানিয়া চলিতে হইবে এই বিষয়ে প্রণীত কর্মপন্থার সকল নিয়ম। তাহারা স্বাস্থ্যবিধি মানিতেছে কি না—তাহা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এই জন্য জেলা প্রশাসন কর্তৃক এই সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নাই।

বর্তমানে আমাদের পর্যটনশিল্পকে নূতন করিয়া ঢালিয়া সাজাইবারও সুযোগ তৈরি হইয়াছে। কেননা দীর্ঘ পাঁচ মাস বিরতির কারণে আমাদের পর্যটনকেন্দ্রগুলি প্রাকৃতিকভাবে আরো দৃষ্টিনন্দন হইয়া উঠিয়াছে। এই পরিবেশ যেভাবেই হউক ধরিয়া রাখিতে হইবে। আশার কথা হইল, গবেষকরা বলিতেছেন, সকল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হইলে করোনা-পরবর্তী পর্যটনে নূতন নূতন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হইবে। বিশ্বে পর্যটকদের চাহিদা পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে বিশ্বের মোট পর্যটকের প্রায় ৭০ শতাংশ ভ্রমণ করিবেন এশিয়া অঞ্চলে। সুতরাং পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে এখন হইতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে। এই খাতে বাড়াইতে হইবে দক্ষ জনশক্তি। বাড়াইতে হইবে অর্থবরাদ্দও। যেইখানে ২০২০-২১ অর্থবত্সরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হইয়াছে, সেইখানে শুধু পর্যটনের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৭২৫ কোটি টাকা—যাহা মাত্র শতকরা ২০ ভাগ। সুতরাং বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি এই খাতের উদ্যোক্তারা যাহাতে ব্যাংক ঋণ ও বিমাসুবিধা লাভ করিতে পারেন, সেই দিকে অবশ্যই নজর দিতে হইবে।