মানুষের বিবেক আজ কোথায়?

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৭

কী হবে অক্সফোর্ড থেকে পিএইচডি করে, কী হবে বুয়েট থেকে  ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে, কী হবে হার্ভাড ইউনিভার্সিটি থেকে অনেক বড়  ডিগ্রি লাভ করে, মেডিক্যাল থেকে ডাক্তারের সার্টিফিকেট নিয়েও লাভ কী? যদি না হতে পারি মানুষের মতো মানুষ, মানবতার ছিটেফোঁটা যদি নাইবা থাকে মনে।

আমরা নিজেদের মানুষ বলে গর্ববোধ করি; কিন্তু মানুষ বলতে কেবল দুই হাত, দুই পা, দুই চোখ, নাক, মুখ ইত্যাদি অঙ্গ থাকাই যথেষ্ট? না! এসব বাহ্যিক আবরণ কখনো প্রকৃত মানুষ চিহ্নিত করতে পারে না। মানুষ হলো তার স্বভাব, তার আচরণ, তার কর্ম, মানবতা সব কিছুর সমষ্টি। আর একজন মানুষের সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হয় তার মনুষত্ব বা বিবেক দ্বারা। যারা মানবতার পক্ষে কথা বলে না এমনকি চোখের সামনে দেখেও তা না দেখার ভান করে এড়িয়ে যায় তারা মানবজাতির বড় দুশমন, তার চেয়ে বেশি দুশমন ও শত্রু হলো তারা, যারা মানবতার মুখোশ পরে অমানবিক হয়ে বিশ্বকে অশান্তিতে রাখে। আহারে মানুষ!

আমরা সেই ছোট্ট থেকে বইয়ে পড়ে আসছি, জেনে আসছি, ‘মানুষ মানুষের জন্য’। আজ বিশ্ব মিডিয়ায় শুনতে পাই, নিজ দেশের চিত্রে দেখতে পাই তার উলটো চিত্র। কেউ নিরাপদে নেই। কোথাও না কোথাও যুদ্ধ, খুন, মারামারি, সংখ্যালঘুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন দিনকে দিন লেগেই আছে।

পৃথিবীতে আজকাল মানবাধিকার সংগঠনের অভাব নেই। পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে অসংখ্য মানবতার সংগঠনের চিত্র; কিন্তু এই সংগঠনগুলো কীভাবে মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে, তা বোধগম্য হচ্ছে না। যদিও বেশ কিছু সংগঠন সত্যিকার অর্থেই মানবতার জন্য কাজ করে যাচ্ছে, যার সংখ্যা সীমিত।

মানবাধিকার বলতেই তো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সমান অধিকারকে বোঝায়; অসহায়, দুঃখী যারা তারাও তো মানবাধিকার সংগঠনের সেবা পাওয়ার সম উপযোগী; কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিচ্ছবি মাঝেমধ্যে পুরোটাই উলটো। যার যত তৈল মর্দনের ক্ষমতা তার পক্ষেই সব মানবতা উপচে পড়ে। ভৌগোলিক কারণে দেশ, ধর্ম, বর্ণ, জাতি ভিন্ন কিন্তু সবাই তো মানুষ। তাহলে কেন এত অমানবিক? তারা কি এসব বৈষম্য উপলব্ধি করে না?

গুণীজনদের লেখায় পড়েছি ও বয়োজ্যেষ্ঠদের থেকে জেনেছি—এই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আদালত হচ্ছে মানুষের বিবেক। সমাজে অনেক মানুষ আছেন, যাদের বিবেক আছে ঘুমিয়ে। আবার সমাজে এমনও কিছু মানুষ আছেন যারা স্বপ্ন দেখেন মানুষের কল্যাণের। মানুষের জন্য মানবতা, মানবতার জন্যই মানুষ, অসহায় এবং বঞ্চিত মানুষের উপকারে নিজেকে আত্মনিবেদন করা এবং অন্যকে এতে উত্সাহিত করার মতো উত্কৃষ্ট কাজ আর হতে পারে না। শত বছর ধরে মানুষের জীবন পালটে দেওয়া থেকে শুরু করে জীবনের নতুন অর্থ নির্মাণের ক্ষেত্রে এগুলোর ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।  অনেক বছর বেঁচে থাকলেই কেবল বড় মানুষ হওয়া যায় না। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে; একজন মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে—তাতেই হয়তো জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তাই আসুন মানুষের পাশে থেকে, গোটা জাতির সঙ্গে একত্রিত হয়ে মানবতার বাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে বিশ্বে একযোগে শান্তি প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়