বরিশাল অফিস
বরিশালে প্রবল বৃষ্টিপাত ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভাঙন ও ফসলের ক্ষতি দেখা দিয়েছে। বরিশাল নগরীর নিম্নাঞ্চল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কীর্তনখোল নদী ছাড়াও বাকেরগঞ্জের বুড়িশ্বর নদী, গৌরনদীর টরকী নদী, ভোলার তেঁতুলিয়া নদী, দৌলতখানে সুরমা-মেঘনা নদী, ঝালকাঠির বিষখালি নদী, বামনা বিষখালি নদী, পাথরঘাটা বিষখালি নদীর পানি গত কয়েক দিন ধরে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে নদ-নদীর পানি জোয়ারের সময় বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নগরীর নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বরিশালে বৃষ্টিপাতের কারণে দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে জোয়ারের পানিতে ডুবেছে বিভিন্ন এলাকা আবার অপরদিকে টানা বৃষ্টিপাতে এই পানি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকে বলেছেন ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকার কারণে পানি নামতেও পারছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। সদর উপজেলার লামচরি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সেখানকার নদী ভাঙনে সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে ঐ এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
বরিশালের দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জের পাতারহাট বন্দর, বাকেরগঞ্জের কবাই, নলুয়া, দুর্গাপাশাসহ অনেক এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। এছাড়াও হিজলার পুরাতন হিজলা, হরিনাথপুর, গুয়াবাড়িয়া, ধুলখোলাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ, চড়বাড়িয়া, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
