লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় চট্টগ্রামে হাসপাতালগুলো পরিবেশ ছাড়পত্র পাচ্ছে না

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ২২:৪১

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় এবার চট্টগ্রামের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার প্রায় দেড় শতাধিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অবিলম্বে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১০টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ৩৫টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য মহানগর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পত্র দেওয়া হয়েছে। জেলার ৬৩টি হাসপাতালের মধ্যে ২৭টির পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। বাকি হাসপাতালসমূহকে এখনো পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান করা হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহানগরীর পরিচালক মো. নুরুল্লা নূরী জানান, ইতিপূর্বে লাইসেন্স হালনাগাদ নবায়ন না থাকলেও পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে লাইসেন্স নবায়ন ব্যতীত পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১০টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে নবনির্মিত ইম্পেরিয়াল হাসপাতালসহ গুটিকয়েক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে। বাকি সব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স ২০১৮ সাল পর্যন্ত নবায়ন রয়েছে। নগরীতে প্রতিষ্ঠিত একাধিক হাসপাতালের ২০১৪-২০১৫ সালের পর লাইসেন্স আর নবায়ন করা হয়নি। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ ও হাসপাতাল বিধিমালা অনুযায়ী হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহে যে সব কমপ্লায়েন্স থাকার কথা তার অনেকগুলো অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অবহেলা এবং কঠোর তদারকি না থাকায় অনেক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান, তাদের আইন ও নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ছাড়পত্র প্রদান করা হবে না। বরং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।  জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক লাইসেন্স নবায়ন এবং পরিবেশ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ না হলে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দুই-তিন বছর পূর্বে লাইসেন্সের নবায়নের আবেদন করা হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোনো পরিদর্শন টিম না আসায় তাদের আবেদন পড়ে আছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবহেলার দায়ভার হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিকদের নিতে হচ্ছে।