বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়াসহ বিরূপ আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে গত কয়েক দিন ধরে। বাংলাবাজার ঘাট ও কর্ণফুলী চ্যানেলের আশপাশে প্রায় তিন শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ সমুদ্রে যেতে না পেরে নোঙর ফেলে বসে আছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস থেকে আবহাওয়াবিদ ড. এম শহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, মৌসুমি বায়ু প্রবাহ ও বায়ু চাপের আধিক্যের কারণে আকাশে মেঘের বিস্তার ঘটেছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় গত কয়েক দিন ধরে অন্য বন্দরের মতো চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকেও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গতকাল বিকাল ৩টা নাগাদ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬২ দশমিক ৩ মিলিমিটার।
এদিকে মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে মিশে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। ফলে মঙ্গলবারও মোংলা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবত্ রয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত মঙ্গলবার দিনভর অব্যাহত রয়েছে। রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত মোংলা বন্দরে অবস্থানরত সার ও ক্লিংকারসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ১৫টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের মালামাল ওঠানামার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন।
এদিকে বৃষ্টির পানিতে পৌর শহর ও শহরতলীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এখানকার বেশকিছুসংখ্যক চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা এ জেড এম তৌহিদুর রহমান বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার চিংড়ি ঘের রয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিপাতে প্রায় ১০ ভাগ ঘের তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টিপাতে এখানকার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও রিকশা-ভ্যান চালকেরা।
