প্রতি বছরই চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণ বাজার এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। গত এক সপ্তাহ ধরে আবারও ভাঙতে শুরু করেছে। নতুন ভাঙনে ২৫ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এখন মেঘনার পানি বিপত্সীমার ৪০.২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শহর রক্ষা বাঁধের নতুন বাজার ও পুরাণ বাজারের সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা স্থায়ী ও শক্তিশালী করার জন্য ৪২১ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ড পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে আছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লা জোনের এডিশনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার জহির উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, চাঁদপুর শহরকে রক্ষার জন্য ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে ৩ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ করি। দীর্ঘদিন শহর রক্ষা বাঁধ ব্যবহার, বর্ষা মৌসুমে নদীর ঢেউ ও স্রোতের আঘাতে নির্মিত প্রতিরক্ষা কাজ স্থানে স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৯ সালে শহরের পুরাণ বাজার হরিসভা এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আমরা সেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ সম্পাদন করেছি। গত কয়েক দিন আবারও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১০০ মিটার এলাকার তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা সেখানে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি।
প্রধান প্রকৌশলী আরো বলেন, দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন হলে এবং কাজ সম্পাদন করা হলে চাঁদপুর শহর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. রুহুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
