ইন্দোনেশিয়ায় দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্প

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৫২

এএফপি

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে বুধবার দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সুমাত্রা দ্বীপ উপকূলে অনুভূত ভূমিকম্প দুইটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৮ ও ৬.৯। তবে এতে সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং হতাহত বা ব্যাপক ক্ষতির কোনো খবর জানা যায়নি বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে।

সুমাত্রার পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলের বাংকুলু নগরীর সমুদ্রতীর থেকে স্বল্প দূরত্বে দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে সেখানকার বাসিন্দারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়। বাংকুলুর বাসিন্দা জুমেনত্রিয়ো এএফপিকে বলেন, ‘সেখানে প্রথম দফা ভূমিকম্প আঘাত হানার পরপরই দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম দফার চেয়ে দ্বিতীয় দফার ভূমিকম্প বেশি শক্তিশালী ছিল। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা জানায়, দফায় দফায় ভূমিকম্পে এলাকাটি কেঁপে উঠে। সুনামি ও ভূমিকম্প কেন্দ্রের প্রধান রহমত ত্রিয়োনো বলেন, ‘ভূমিকম্পের কারণে এখন পর্যন্ত আমরা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাইনি।’

স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে প্রথম দফা ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্প দুইটির উত্পত্তিস্থল ছিল যথাক্রমে ভূপৃষ্ঠের ২২ ও ২৬ কিলোমিটার গভীরে। ভূপৃষ্ঠের গভীরে আঘাত হানা যেকোনো ভূমিকম্পের চেয়ে ভূপৃষ্ঠের স্বল্প গভীরে আঘাত হানা ভূমিকম্পের ক্ষতির প্রবণতা অনেক বেশি থাকে। তবে দি ইন্ডিয়ান ওশান সুনামি ওয়ার্নিং অ্যান্ড মিটিগেশন সিস্টেম জানায়, এতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য সুনামির কোনো হুমকি নেই।

অবস্থানগত কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় বারবার ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। ২০১৮ সালে সুলাওয়েসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারায় বা নিখোঁজ হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৫। ২০০৪ সালে সুমাত্রা উপকূলে রিখটার স্কেলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামির ঘটনায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এতে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়।