বাকেরগঞ্জের গোমা সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ, আজ
পরিদর্শন করবেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান
শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটি নদীতে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্মাণাধীন গোমা সেতুর উচ্চতা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। উচ্চতা অনুমোদনের পাঁচ বছর পর বিআইডব্লিউটিএ ফের সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য চিঠি দেওয়ায় ৬৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষে থমকে গেছে এর কার্যক্রম। বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর পুনরায় কাজ শুরু হলেও তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক গোমা সেতু পরিদর্শনে আসছেন।
বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে বাকেরগঞ্জ হয়ে পটুয়াখালীর দুমকি পর্যন্ত সহজ যাতায়াত নিশ্চিতে বরিশাল-দিনারেরপুল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে থাকা বাকেরগঞ্জের রাঙ্গামাটি নদীতে ২০১৪ সালে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ২০১৫ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ২০১৮ সালের মে মাসে শুরু হয় সেতুর নির্মাণকাজ। বরিশাল সওজ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়, ‘ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স স্ট্যান্ডার্ড হাই-ওয়াটার লেভেল থেকে কমপক্ষে ৭ দশমিক ৬২ মিটার এবং হরাইজন্টাল ক্লিয়ারেন্স ৩০ দশমিক ৪৮ মিটার রেখে সেতুটি নির্মাণে কোনো আপত্তি নেই। পরবর্তী সময়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক প্রদত্ত ক্লিয়ারেন্স মোতাবেক সওজ ডিজাইন ইউনিট সেতুর ডিজাইন প্রণয়ন করে। ৫৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্নের পর ২০১৯ সালের মার্চ মাসে এটির উচ্চতা বিষয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি দিয়ে আপত্তি জানায় বিআইডব্লিউটিএ। এই চিঠি পাওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় সেতুর নির্মাণকাজ। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সেতুর কাজ শুরু করতে বলা হলে কয়েক দিন কাজ চলার পর তা পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়।
বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের মে মাসে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. আশরাফুর রহমান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর গোমা সেতুর নৌপথ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে সেতুটির ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স ১২ দশমিক ২০ মিটার এবং হরাইজন্টাল ক্লিয়ারেন্স ৪০ মিটার রেখে ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়টি অবহিত করেছেন। বিআইডব্লিউটিএ নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান। তবে সওজের একাধিক কর্মকর্তার মতে, পার্শ্ববর্তী পেয়ারপুর সেতুটির চেয়ে ৩ মিটার উচ্চতা বেশি থাকা গোমা সেতুর অনুমোদন দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে ৬৫ ভাগ কাজ শেষে বিআইডব্লিউটিএর আপত্তির বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে গতকাল বুধবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বরিশাল বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে এই সেতু সম্পর্কে জানতে চাইলে আজ বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান সেতু পরিদর্শনে আসবেন বলে তাকে জানান সওজ বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুশীল কুমার সাহা।
গোমা সেতুর সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতনদের সব তথ্যসহ অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন গোমা সেতুর ভিত্তিসহ পিয়ার ও এবাটমেন্টের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে বিয়ারিং সিট লেভেল পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে বিধায় সেতুর ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স বৃদ্ধি করতে হলে সেতুটির পিয়ারসমূহ ও এবাটমেন্ট ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে হবে, যা এটির স্ট্রাকচারের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স বৃদ্ধি করলে সেতুর লোড বৃদ্ধি পাবে, যা সেতুর ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ভিত্তির জন্য অতিরিক্ত লোড হয়ে দাঁড়াবে, যা ডিজাইন প্রণয়নে বিবেচনা করা হয়নি।
এদিকে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত গোমা সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় এই রুটে যাতায়াতকারীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, পার্শ্ববর্তী পেয়ারপুর সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারলে তার চেয়ে তিন মিটার উচ্চতায় থাকা গোমা সেতুর নিচ দিয়ে চলাচলে বিঘ্ন হওয়ার কথা নয়।
