দেশে তিন দফা বন্যায় ১ হাজার ৩২৩ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৫১ জন কৃষক। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বন্যায় ৩৭টি জেলার মোট ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৮ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের। মোট ৭০ হাজার ৮২০ হেক্টর জমির আমন নষ্ট হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৩৮০ কোটি টাকা। এছাড়া ৩২ হাজার ২১৩ হেক্টর জমির ৩৩৪ কোটি টাকার আউশ ধান এবং ৭ হাজার ৯১৮ হেক্টর জমির আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত, ২৩৫ কোটি টাকার সবজি এবং ২১১ কোটি টাকার পাটের ক্ষতি হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় পানি আবার বাড়ছে। তাই চিন্তিত আছি। প্রকৃতি সব সময় আমাদের একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখে।’
সংবাদ সম্মেলনে ইত্তেফাকের এক প্রশ্নের জবাবে ড. রাজ্জাক বলেন, ‘বন্যায় ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে খাদ্য উত্পাদনে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমরা ঝুঁকিতে পড়ব না। ইতিমধ্যে বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ নানা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চাল আমদানির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজন না হলে চাল আমদানি করা হবে।’ কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় প্রণোদনামূলক কার্যক্রম বেগবান, তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত ও যুগ্মসচিবদের নেতৃত্বে ১৪টি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে ৭০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে শাকসবজি চাষের জন্য বিনা মূল্যে বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ৯ লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ জন কৃষকের প্রত্যেককে গম, সরিষা, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী, খেসারি, পেঁয়াজ, মরিচ, টম্যাটো আবাদের জন্য উপকরণ সরবরাহ করা হবে।’ কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘পারিবারিক কৃষির আওতায় সবজি পুষ্টিবাগান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার টাকার বিনা মূল্যে বীজ, চারা ও সার ৬৪ জেলার ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৯২ জন কৃষকের মধ্যে দেওয়া হয়েছে।’
ড. রাজ্জাক বলেন, ‘বন্যায় অধিক ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় কৃষকদের জমিতে কমিউনিটিভিত্তিক বীজতলার মাধ্যমে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার চারা উত্পাদন করা হবে, যা বিনা মূল্যে বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ৩৩টি জেলায় ৩৫ হাজার ১৬৬ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০টি ভাসমান বেডে ধানের চারা উত্পাদন করা হবে। এতে ৪০ জেলায় ১ হাজার ২৬৫ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, ২৫টি জেলায় ৬১ হাজার ৬০০টি ট্রে-তে রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ৭৭২টি ট্রেতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। রোপা আমনের এই চারা ১ হাজার ৬০০ জন কৃষককে বিতরণ করা হবে। ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যদি সামনে আরো কোনো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে আমরা বন্যার এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’
