মানুষ প্রাণীর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। প্রাণীর মাংস মানুষের অন্যতম প্রিয় খাদ্য, যানবাহনের মাধ্যম, জীবিকারও অন্যতম উত্স। যে কোনো দেশের জন্যই জীবজন্তু, পশু-পাখি অমূল্য সম্পদ। হযরত মুসা (আ)-এর ওপর নাযিলকৃত পবিত্র তাওরাত শরিফের বর্ণনামতে আল্লাহতায়ালা প্রাণী ও মানুষ উভয়কে ষষ্ঠ দিনে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র তাওরাত শরিফে বর্ণিত আছে, ‘তারপর ঈশ্বর বললেন, ‘মাটি থেকে এমন সব প্রাণীর জন্ম হোক, যাদের নিজের নিজের জাতিকে বাড়িয়ে তুলবার ক্ষমতা থাকবে। তাদের মধ্যে গৃহপালিত বন্য ও বুকে হাঁটা প্রাণী থাকুক।’ আর তা-ই হলো। ঈশ্বর দুনিয়ার সব রকমের বন্য, গৃহপালিত এবং বুকে হাঁটা প্রাণী সৃষ্টি করলেন। এদের সকলেরই নিজের নিজের জাতিকে বাড়িয়ে তুলবার ক্ষমতা রইল। ঈশ্বর দেখলেন তা চমত্কার হয়েছে।’ (পয়দাদেশ: ২৪-২৫) আল কুরআনে কয়েকটি সুরা রয়েছে পশুপ্রাণীর নামে। যেমন: ৬ নং সুরা আনআম, যার অর্থ বাড়িতে পালা পশু। ১৬ নং সুরা নাহল, যার অর্থ মৌমাছি। ২৭ নং সুরা নমল, যার অর্থ পিঁপড়ারা। ২৯ নং সুরা আনকাবুত, যার অর্থ মাকড়সা। ১০০ নং সুরা আল আদিয়াত (দৌড়ানো ঘোড়া)। আবার আল্লাহতায়ালা পশুর নামে শপথ খেয়েছেন যেমন: ‘সেই সব ঘোড়ার শপথ, যারা হ্রেষা রব তুলে ছুটে চলে, নিজের খুর দিয়ে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করে’। (সুরা-১০০: আল আদিয়াত:১-২)। আল কুরআনে প্রাণী সৃষ্টি সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পশু সৃষ্টি করেছেন; তোমদের জন্য তাতে শীতবস্ত্রের উপকরণ ও বহু উপকার রয়েছে এবং এ থেকে তোমরা আহার্য পেয়ে থাক এবং তোমরা যখন গোধূলিলগ্নে এদের চারণভূমি হতে গৃহে নিয়ে আস এবং প্রভাতে যখন চারণভূমিতে নিয়ে যাও, তখন তোমরা তার সৌন্দর্য উপভোগ করো এবং তোমাদের আহরণের জন্য ও শোভার জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন অশ্ব, খচ্চর ও গর্দভ এবং তিনি সৃষ্টি করেন এমন অনেক কিছু, যা তোমরা অবগত নও।’ (সুরা-১৬: আন-নাহল:৫-৮)
প্রাণী মানুষের রোগের অন্যতম পথ্যও বটে। যেমন: মৌমাছি হতে প্রাপ্ত মধু। আবার প্রাণী ইবাদতেরও মাধ্যম। যেমন ইসলাম ধর্মে কুরবানি, আকিকা পশু জবাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। মানুষ প্রাণীর ওপর এমনভাবে নির্ভরশীল যে, প্রাণী ব্যতীত মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব। পশুপ্রাণী আল্লাহতায়ালার সৃষ্টির অন্যতম নিদর্শন।
l লেখক :প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ,
টিঅ্যান্ডটি কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
