প্রতিবেশীর হক

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ২১:১৮

বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে—রাসুলুল্লাহ (স) বলেন—‘হে আবু যার, তুমি তরকারী রান্না করলে একটু ঝোল বাড়িয়ে দিও এবং তোমার প্রতিবেশীকে তাতে শরিক করো।’

   হাফেজ মাওলানা কাজী মারুফ বিল্লাহ্

 

সমাজবদ্ধ পৃথিবীতে মানুষের জীবনযাত্রায় প্রতিবেশীর গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য ইসলাম প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষার তাগিদ দিয়েছে। বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম (স) বলেন—‘জিবরাঈল আ. আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এতো বেশি তাগিদ করছিলেন যে, আমার কাছে মনে হচ্ছিল—প্রতিবেশীকে মিরাছের অংশীদার বানিয়ে দেয়া হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা সুরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে ইরশাদ করেন- ‘আর তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, শরিক করো না তাঁর সাথে অন্য কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সত্ ও সদয় ব্যবহার করো এবং নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশি, অসহায়, মুসাফির ও নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। অবশ্যই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক গর্বিতজনকে।’ এই আয়াতে কারিমায় আল্লাহ বলেছেন- ইবাদত হবে একমাত্র আল্লাহর জন্যই এবং তার সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না। এ অকাট্য বিধানের পর আল্লাহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের হক বর্ণনা করেছেন। মাতা-পিতার হক, আত্মীয়স্বজনের হক, এতিমের হক, এগুলোর পাশাপাশি তিনি প্রতিবেশীর হকের কথাও উল্লেখ করেছেন। এ থেকেই আমরা বুঝতে পারি—আল্লাহ প্রতিবেশীর হকের প্রতি কতো গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) বলেন— ‘ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেটপুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’ সমাজে একটি বিষয় আমরা লক্ষ করে থাকি—অনেক প্রতিবেশী এমন আছেন, যাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তিনি অভাবী। অথচ তিনি কারো কাছে হাত পাতেন না। কুরআনুল কারীমে এ শ্রেণির লোকদেরকে ‘বঞ্চিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা যারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা ইরশাদ ফারমান—‘আর তাদের সম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।’ এক্ষেত্রে আমাদের উচিত হবে—নিজে থেকে তাদের খোঁজখবর রাখা এবং তাদেরকে দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করা যেন তারা লজ্জা না পান। আল্লাহ এতে বেশি খুশি হবেন।

প্রতিবেশীদের পরস্পরের সুসম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য একে অপরকে হাদিয়া-উপঢৌকন দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে হূদ্যতা সৃষ্টি হয় এবং পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি জাগ্রত হয়। বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে—রাসুলুল্লাহ (স) বলেন—‘হে আবু যার, তুমি তরকারী রান্না করলে একটু ঝোল বাড়িয়ে দিও এবং তোমার প্রতিবেশীকে তাতে শরিক করো।’ বুখারির অপর এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম (স) বলেন—‘হে মুসলিম নারীগণ! তোমাদের কেউ যেন প্রতিবেশীকে হাদিয়া দিতে সংকোচবোধ না করে, যদিও তা বকরির খুরের মতো একটি নগন্য বস্তুও হয়।’

আমরা যদি এ বিষয়টার প্রতি একটু লক্ষ্য করি যে, আমাদের বাসায় হয়ত ভালো কিছু রান্না হচ্ছে, প্রতিবেশী তা না জানতে পারলেও রান্নার ঘ্রাণটা তার কাছে ঠিকই পৌঁছে যাচ্ছে, এতে তার বাচ্চাদের মনে খাবারের একটা আগ্রহ তৈরি হয়। তাই ইমানি দায়িত্ব মনে করে আমরা অবশ্যই তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবো। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন!

lলেখক :রেডিও-টিভির ধর্মীয় আলোচক, উপস্থাপক ও খতীব, জাজিরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ,

দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা